• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ১৮ই ফাল্গুন ১৪৩০ রাত ১০:৪২:১৩ (01-Mar-2024)
  • - ৩৩° সে:
এশিয়ান রেডিও
  • ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ১৮ই ফাল্গুন ১৪৩০ রাত ১০:৪২:১৩ (01-Mar-2024)
  • - ৩৩° সে:

বেকারদের আইডল খাগড়াছড়ির সফল ফ্রিল্যান্সার সুমন দাশ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি জেলার সফল ফ্রিল্যান্সার সুমন কান্তি দাশ সারা দেশের বেকার যুবকদের আইডল হতে পারে। খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড আনন্দনগরের স্থায়ী বাসিন্দা তিনি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়িতে বসে লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (LEDP) এর ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স করে, বিদেশী ক্লায়েন্টদের কাজ করে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার ও বর্তমান তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছেন।সুমন কান্তি দাশ ২০২১ সালে বেসিসের পক্ষ থেকে সেরা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সম্মাননা পান। ২০২৩ সালে এলইডিপি’র পক্ষ থেকে সেরা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে স্বীকৃতি পান। ২০২৪ সালে আইটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সফল ফ্রিল্যান্সার ও সফল আইটি প্রশিক্ষক হিসেবে সম্মাননা পান।সুমন কান্তি দাসের সফলতার সকল দিকের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতে বসে LEDP কোর্স করে এখন আমি বিদেশী ক্লায়ন্টের কাজ করে ডলার আয় করছি । LEDP কোর্স করে আমি সফল ফ্রিল্যান্সার হয়েছি ।LEDP এর কোর্স করার আগে আমি কম্পিউটার অপারেটর আর ফটোকপি’র দোকানে কাজ করতাম। আমি আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলাম।তখন সারাদিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করার পর প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারতাম। অনেক কষ্টে আমার দিন অতিবাহিত হচ্ছিলো। এর মধ্যে কোভিড-১৯ মহামারী শুরু হওয়ার পর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গিয়েছিলো।কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করার কারণে ফ্রিল্যান্সিং’র বিষয়ে অনেক শুনতাম কিন্তু কোনোদিন ভালো কোনো সুযোগের কথা জানতে পারিনি । আমার ইচ্ছা ছিল কিন্তু আমি জানতাম না কি করে সঠিক ভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে হয়। অনেক কিছু করার ইচ্ছে ছিল, অনেক স্বপ্ন ছিলো, জীবনে ভালো কিছু করার জেদ ছিলো, কিন্তু সঠিক কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলাম না ।২০২০ এ আমার বন্ধু একদিন আমাকে LEDP এর কোর্সের বিষয়টি জানালো। আমি জানতে পারলাম সরকার বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স দিচ্ছে।এরপর আমি LEDP তে ডিজিটাল মার্কেটিং এ আবেদন করি। পরীক্ষা দেয়ার পর আমি নির্বাচিত হই। আমি ২০২০ এ LEDP থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স করা শুরু করি।আমি কোর্স শুরু করার এক মাসের মধ্যে অনলাইন মার্কেটপ্লেস Upwork থেকে কাজ পেয়ে ইনকাম করা শুরু করি। এখন পর্যন্ত আমার মোট আয় ৯৫,০০০ (পঁচানব্বই হাজার) ডলার এর বেশি। এখন প্রতি মাসে আমি ৭০০০ থেকে ৮০০০ ডলার ইনকাম করি।এখন ও আমার ২০টি কাজ চলমান আছে। ওই কাজ গুলো অনেক দিন চলতে থাকবে। আমি এখন পর্যন্ত ১৪০টির বেশি প্রজেক্টে কাজ করেছি। আমি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া , যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের কাজ করে থাকি। এখন আমি প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫টি নতুন কাজ পাই।সফলতার গল্প বলতে বলতে বলছিলেন তার কোম্পানির কথা। তিনি বলছিলেন, এখন আমার একটি অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং কোম্পানি আছে । আমি নিজে কাজ করার পাশাপাশি Lot 9, LEDP, আমার ব্যাচ, আর নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাজ করতে দিই এবং নতুনদের ফ্রিল্যান্সিং এর প্রশিক্ষণ দিই। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই কাজগুলো আমি বিনামূল্যে করি। আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো শিক্ষিত বেকার তরুণ তরুণীদের দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলা। আমি একজন দক্ষ উদ্যোক্তা হয়ে দেশের সেবায় কাজ করতে চাই সেজন্য সরকারের আইসিটি ডিভিশনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরীর প্রশিক্ষণ কামনা করছি । LEDP কোর্স করে এখন আমি স্বাবলম্বী। এখন আমি আর্থিকভাবে সচ্ছল।বিনামূল্যে এত সুন্দর একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপকার প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় স্যারকে ।এরই সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আইসিটি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক স্যার, সচিব স্যার এবং প্রকল্প পরিচালক জনাব মো. হুমায়ুন কবীর স্যারকে।সুমন দাশ তার শিক্ষকদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি LEDP আর Lot 9 এর সকলের প্রতি এবং Lot 9 এর রুহেল স্যার, তরিকুল স্যার, পান্না স্যার, আমার প্রশিক্ষক সুলতানা রাবেয়া আপুর প্রতি কৃতজ্ঞ। উনারা অনেক আন্তরিক ছিলেন এবং আমাকে সবসময় সাহায্য করেছেন ।LEDP কোর্সগুলো চলমান রাখার জন্য বিনীত ভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি । এই কোর্সগুলোর সাথে সাথে আরো আপডেট নতুন কোর্স যেমন Artificial intelligence, Cyber security কোর্স প্রদান করার জন্য বিনীত ভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।পার্বত্য অঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিতদের কথা উল্লেখ করে সুমন বলেন, পার্বত্য অঞ্চল দুর্গম হওয়ায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমার সর্বপ্রথম ইচ্ছা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের বিনামূল্যে আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে আত্মনির্ভরশীল করা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশগ্রহণ করা।

জেলার ইতিহাস


দর্শনীয় স্থান