• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ দুপুর ০২:৩৬:০৯ (12-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:

খাগড়াছড়িতে শুকিয়ে গেছে ঝিরি-ঝর্ণা, সুপেয় পানি সংকটে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী

খাগড়াছড়ি প্রিতিনিধি : পানির জন্য হাহাকার করছে খাগড়াছড়ি,র দুর্গম এলাকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠী। ঝিরি-ঝর্ণা শুকিয়ে যাওয়ার ফলে গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। তৃষ্ণা মেটাতে কয়েক কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানির খোঁজেন খাগড়াছড়ি দুর্গম এলাকার বসবাসরত পাহাড়িরা। মাথায় কলসি কিংবা থুরু নিয়ে পানির সন্ধানে যান ঝিরি-ঝর্ণাগুলোতে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি-ঝর্ণার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় কারণে দুর্গম এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। নদী ও ঝিরির দূষিত পানি পান করার ফলে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে কোমলমতি বাচ্চাসহ বয়স্করাও।যেখানে শুষ্ক মৌসুম এলে প্রধান সমস্যার কারণ হিসেবে দেখা দেয় সপেয় পানির। বর্তমানের ঝিরি-ঝর্ণাগুলোতে পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে অথৈই পানি সংকট। যার ফলে পানির তৃষ্ণা মেটাতে হাহাকার হয়ে পড়েছে খাগড়াছড় জেলার দুর্গম এলাকার জনগোষ্ঠী।খাগড়াছড়ি জেলার ও বিভিন্ন উপজেলার দুর্গম এলাকার জনসাধারণের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে ঝিরি ও খালগুলোতে মিলত প্রায় বহু জাতের প্রাণী। যেমন- কাকড়া, শামুক, কচ্ছপ, গুইসাপ, ছোট ছোট মাছসহ নানা ধরনের জীববৈচিত্র। বর্তমানে এসব ঝিরিতে পানিও মিলছে নাহ। সেসব ঝিরিতে পাথর থাকার সময় পানি ছিল স্বচ্ছল ও পরিষ্কার। অথচ এখন সেই বহু জাতের প্রাণীসহ পাথরগুলো হারিয়ে গেছে।পানি শূন্যতার কারণে মৃতপ্রায় পানি প্রবাহিত ছোট শাখা-প্রশাখা ঝিরিগুলো। পাহাড়ের ভয়ঙ্কর রূপধারণের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পাহাড়ের বসবাসরত জনগোষ্ঠীর।সরেজমিনে দেখা যায়, নুনছড়ি দেবতা পুকুর সহ দুর্গম এলাকার গ্রামগুলোতে একই চিত্র। পানি উৎস ঝিড়ি-ঝর্ণাগুলো শুকিয়ে যাওয়া ফলে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন নদী-খাল ও ছোট-খাটো ঝিরিতে গ্রীষ্মকাল শুরু হলে পানি বহমান হয় না, ঝিরি-ঝর্ণা নয় শুধু, শুকিয়ে গেছে গাছের শেকড়ও। প্রায় ২-৩ ঘণ্টা মাথায় কলসি কিংবা থুরু নিয়ে পানি খোজে দীর্ঘপথ তারা পাড়ি জমান ঝিরি-ঝর্ণায়।কোথাও পানির দেখা মিললেও সে পানি আবার দূষিত। ঝিরিতে জমে থাকা দূষিত পানি নিতে অপেক্ষা করতে হয় ২-৩ ঘন্টা। আর এসব পানি পানে ডায়রিয়া, জন্ডিস,পাতলা পায়খানাসহ নানান রোগের ভুগতে হচ্ছে বাচ্চাসহ বৃদ্ধরাও।এদিকে খাল ও ঝিরি থেকে অবাধে পাথর উত্তোলন, বৃক্ষনিধন, পাহাড় কর্তনের কারণে দিনদিন শুকিয়ে গেছে ঝিরি-ঝর্ণার পানি কমে গেছে পানি স্তর।যেখানে বারো মাস পানি পাওয়া যেত সেখানে এখন আর পানি নেই। গাছকাটার যে মহোৎসব, তার পাশাপাশি পাথর তোলার মহোৎসব, তথাকথিত উন্নয়ন নামে যেসব পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে আগামী ৫-৭ বছরের মধ্যে বড় বড় পাহাড় ও ঝিরিগুলো শুকিয়ে যাবে তার কোন সন্দেহ নেই।নির্বিচারে ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলন, গাছ কাটার ফলে প্রকৃতি এখন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে এটি দিনদিন প্রচণ্ড খরা হয়ে দুর্ভক্ষে পরিণত হচ্ছে। প্রশাসন ও সর্বস্তর মানুষ যদি এই জলবায়ুকে সঠিক রাখতে না পারি তাহলে ভবিষ্যতে পাহাড়ের অবস্থা আরো দুর্ভিক্ষের পথে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।মূলত পাহাড়ের ঝিরি-ঝর্ণায় পাথরে লেগে থাকে। পাথর উত্তোলন করা কারণে  পাথরের গায়ে পানি লেগে থাকতে পারছে না। যার ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখতে না পারার কারণে দিনদিন পানি দ্রাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে। এই অবস্থায় যদি চলতে থাকে ভবিষ্যতে পাহাড়ের সমস্যা দেখা দিবে।

জেলার ইতিহাস


দর্শনীয় স্থান