পিরোজপুরে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুর সদর উপজেলায় ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ৩০ মার্চ সোমবার বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু ধর্ষণ অপরাধ ট্রাইবুনাল পিরোজপুরের বিচারক এস এম মনিরুজ্জামান এর আদালতে এ রায় দেন।মামলার প্রধান আসামি মিলন শেখকে ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড; অনাদায়ে তিন মাসের অতিরিক্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। অন্য দুই আসামি অলি গাজী ও মারুফ গাজী কিশোরী ভিকটিমকে অপহরণের অপরাধে প্রত্যেককে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায় আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।ভিকটিম ১৩ বছরের কিশোরী পিরোজপুর সদর উপজেলার পশ্চিম কদমতলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তিনি কদমতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা।মামলা সূত্রে জানা যায় ২০১৩ সালের ২৩ মার্চ ভিকটিম নাজিরপুরের চৌঠাই মহল এলাকায় মামাবাড়ি থেকে পিরোজপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে আসলে দুই আসামী অলি গাজী ও মারুফ গাজী তাকে অপহরণ করে কৃষ্ণনগর এলাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে তারা খুলনায় মিলন শেখের কাছে পৌঁছে দিলে মিলন বিয়ের নাটক সাজিয়ে মুসলিম বানিয়ে গোপালগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ২০ থেকে ২২ দিন আটকে রেখে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে কিশোরী সুযোগ পেয়ে পাশের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নিয়ে বাবাকে ফোন করলে পুলিশ নিয়ে তার বাবা মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরে তার বাবা বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় একটি অপহরণ ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।মামলাটি দীর্ঘদিন শুনানির পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু ধর্ষণ অপরাধ ট্রাইবুনাল পিরোজপুর এর বিচারক এস এম মনিরুজ্জামান এ রায় দেন।পাবলিক প্রসিকিউট (পিপি) অ্যাডভোকেট শাজাহান সরদার জানান, ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রায় পেয়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি।