• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ৫ই আশ্বিন ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৭:১২:৪৬ (20-Sep-2026)
  • - ৩৩° সে:

শিশু কলি হত্যা, দুই দিন ধরে আসামির বাড়িতে চলছে ভাঙচুর

পাবনা প্রতিনিধি: ‎পাবনায় শিশু শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে দুই দিন ধরে চলছে ভাঙচুর। শুক্রবার হামলার পর শনিবার সকাল থেকে আবারও বাড়িটিতে ভাঙচুর শুরু হয়েছে।১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বহুতল ভবনটির বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর করে নিয়ে যেতে দেখা যায় অনেককে।স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ এসে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা ভবনটির বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙচুরকারীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। এ সময় বাড়িটির দরজা-জানালা, আসবাবসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।ভাঙচুর করতে আসা কয়েকজন বলেন, তাদের বাড়ি ওই এলাকায় নয়। তবু ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানাতে তারা সেখানে এসেছেন। তাদের ভাষায়, “আমাদের বাড়ি এখানে না হলেও মনের আশা পূরণ করতে এখানে ভাঙতে এসেছি। একটি ইট হলেও ভেঙে আত্মাকে শান্তি দিচ্ছি। এখানে কোনো নাম-নিশানাও থাকবে না।’এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেল বলেন, দ্বিতীয় দিনের মতো সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত স্থানীয় লোকজন ওই বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছেন। শুধু স্থানীয়রাই নন, দূরদূরান্ত থেকেও লোকজন এসে ভাঙচুরে অংশ নিচ্ছেন। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। সবাইকে শান্ত থাকতে পরামর্শ দেন তিনি।এর আগে ‎গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের সাত দিন পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামে তাদের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় কলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে রাখা হয়। ‎পুলিশের দাবি, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খুঁজতে বের হন। এমনকি শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও তল্লাশি কার্যক্রমেও তারা অংশ নেন। দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

জেলার ইতিহাস


দর্শনীয় স্থান