• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ৯ই ফাল্গুন ১৪৩০ রাত ১২:৪৬:৫৫ (22-Feb-2024)
  • - ৩৩° সে:
এশিয়ান রেডিও
  • ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ৯ই ফাল্গুন ১৪৩০ রাত ১২:৪৬:৫৫ (22-Feb-2024)
  • - ৩৩° সে:

রাঙ্গুনিয়ায় টায়ার পুড়িয়ে তেল তৈরির কারখানা, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় স্থাপিত হয়েছে টায়ার পুড়িয়ে বিটুমিন ও জ্বালানি তেল তৈরির কারখানা। উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের সত্যপীর মাজার সংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে এটি স্থাপন করা হয়েছে। ‘হামিম  অয়েল কোম্পানি’ নামে এই কারখানার টায়ার পোড়া দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।কারখানার বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল। কারখানাটি পরিবেশ দূষণ, জনদুর্ভোগ ও জনস্বাস্থ্যের হুমকি সৃষ্টি করলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারখানাটির দক্ষিণে সারি সারি পাহাড় ও সত্যপীর মাজার, পূর্ব পাশে কৃষি জমি ও ঐতিহ্যবাহী সৈয়দা সেলিমা কাদের ডিগ্রী কলেজ এবং পশ্চিমে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের একাধিক বসতঘর। দক্ষিণে রয়েছে সত্যপীর খাল এবং এর পাশেই জনগুরুত্বপূর্ণ কাপ্তাই সড়ক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর বসতঘর। এসবের মাঝেই কাপ্তাই সড়ক সংলগ্ন জায়গায় কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে।কাপ্তাই সড়ক থেকেই নাকে আসছে টায়ার পোড়ানোর গন্ধ। তা ছড়িয়েছে আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত। দুর্গন্ধে নাক চেপে হাঁটতে দেখা গেছে পথচারীসহ পাশের কলেজের শিক্ষার্থীদের। কারখানার বর্জ্যে দূষিত হয়ে কালো আকার ধারণ করেছে সত্যপীর খালের পানি। অথচ এই খালের পানিতেই আবাদ হয় আশেপাশের কয়েকশো বিঘা কৃষি জমি। খালের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে থাকতেও দেখা গেছে। কারখানার ভেতরে ও বাইরে বনভূমি উজাড় করে আনা জ্বালানি কাঠ একাধিক স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ভেতরে যেতেই দেখা যায় পাহাড় সমান টায়ার এনে রাখা হয়েছে। চারদিকে স্যাতস্যাতে পরিবেশ, দুর্গন্ধে নাকাল চারপাশ। কারখানার শ্রমিকদের শরীরও টায়ার পুড়ানো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন।  স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটির টায়ার পোড়ার উৎকট গন্ধে রাতে ঘুমানো যায় না। বাতাসে ও খালের পানিতে কালো বর্জ্য ও ধোঁয়া মেশার ফলে পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিবর্ণ আকার ধারণ করেছে চারপাশের পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি। পাশের কলেজের শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন এলাকা থেকে সত্যপীর মাজার জেয়ারতে আসা ভক্তদেরও অবস্থানকালে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকলে এলাকার মানুষ চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।স্থানীয় কৃষক মিজানুর রশিদ বলেন, “সত্যপীর খালের উপর নির্ভর করে পশ্চিম পোমরা, কাউখালী ও লোহারপুল এলাকার অন্তত ৬০০ বিঘা জমির চাষাবাদ হয়। এখন খালটির পানি এভাবে দূষিত হতে থাকলে এই জমিগুলো অনাবাদি রেখে দেওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। এভাবে সবুজ প্রকৃতির ক্ষতি করে স্থাপিত পরিবেশ বিধ্বংসী এই কারখানা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”বড়ঘোনা এলাকার বাসিন্দা নূর করিম বলেন, “টায়ার যখন পোড়ানো হয়, তখন এর উৎকট দুর্গন্ধে আশেপাশের কয়েকশো গজের মধ্যে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। আগে দিনে পুড়ানো হতো, এখন রাত পুড়ানো হয়। আমাদের এলাকার একমাত্র কলেজটিতেও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। এমনকি সত্যপীর মাজারে আসা ভক্ত অনুরাগীরাও এর উৎকট দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে।”স্থানীয় বাসিন্দা হাকিম উদ্দিন বলেন, ‘তারা ম্যানেজ করে পরিবেশ বিধ্বংসী এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী দুর্ভোগ পোহালেও দেখার যেন কেউ নেই। মানুষ মরলে তাদের কী? যারা এসব দেখভাল করবে তারা তো টাকা পাচ্ছে। জনগণের কষ্ট দেখার কী দরকার।’এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন সাদ্দাম বলেন, “তারা ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার সময় পরিবেশ দূষণ করবে না এরকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। কিন্তু তারা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, পরিবেশ দূষিত করছে। আমরা তাদের পরিষদের ডাকাবো।”   এই ব্যাপারে কারখানার সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত মারজান হোসাইন বলেন, পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতি করে ব্যবসা করা যাবে না। আমি কারখানাটির ব্যাপারে দেখছি।