• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ৩০শে ফাল্গুন ১৪৩২ বিকাল ০৫:২৫:২৩ (14-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:

গোপালগঞ্জে মধুমতির বুকে জেগে ওঠা চরে দর্শনার্থীদের ভিড়

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের চরমাঠলা খেয়াঘাট এলাকায় মধুমতি নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা বালুচর এখন বিনোদনপিপাসু মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জেগে ওঠা এই চর ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের কাছে দর্শনীয় স্থানে রূপ নিয়েছে।বিকেল হলেই চরমাঠলা এলাকায় নদীপাড় ও চরে হাজারো মানুষের ভিড় জমে। অনেকে নদীর নীল জলরাশি আর ধূসর বালুচরের মেলবন্ধনকে ‘মিনি কক্সবাজার’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, নদীর মাঝেই যেন এক টুকরো সমুদ্র সৈকত।সম্প্রতি বিস্তীর্ণ এই বালুচরের ড্রোন শট ও নয়নাভিরাম ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে দর্শনার্থীদের আগমন আরও বেড়ে যায়। এরপর শুধু গোপালগঞ্জ নয়, পার্শ্ববর্তী নড়াইল, বাগেরহাট, মাগুরা ও ফরিদপুর জেলা থেকে প্রতিদিন পর্যটকরা এখানে ছুটে আসছেন।চরের অন্যতম আকর্ষণ ‘জোয়ার-ভাটার’ খেলা। জোয়ারের সময় পুরো চরটি জলরাশিতে তলিয়ে যায়, আর ভাটা শুরু হলে ধবধবে সাদা বালুর বিশাল দ্বীপের মতো ভেসে ওঠে। প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী এই দৃশ্য উপভোগ করতে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে শতশত মানুষ আসছেন। তরুণরা বালুচরে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলায় মেতে উঠছেন। কেউ আড্ডা ও গানে ব্যস্ত, আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীরা সেলফি ও ভিডিও ধারণে মগ্ন। মাত্র ২০ থেকে ৫০ টাকার বিনিময়ে নৌকায় চড়ে পুরো চর এলাকা ঘুরে দেখার সুযোগও মিলছে।দর্শনার্থীদের আগমনকে কেন্দ্র করে নদীপাড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান। ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, ভেলপুরি ও শিশুদের খেলনার দোকানে জমে উঠেছে বেচাকেনা। এতে স্থানীয় গ্রামবাসীর বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নৌকার মালিক ও মাঝিরাও পর্যটক পারাপার করে প্রতিদিন ভালো আয় করছেন। স্বল্প সময়ে গড়ে ওঠা এই বিনোদনকেন্দ্র স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।নড়াইলের লোহাগড়া থেকে আসা পর্যটক চঞ্চল মাহমুদ বলেন, ‘মেয়ের আবদারে এখানে আসা। স্বচ্ছ জলরাশির মাঝে এমন সুন্দর চর সত্যিই মুগ্ধকর। মনে হচ্ছে সমুদ্রের পাড়েই আছি। আবারও পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসবো।’গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৌশিক আহম্মেদ বলেন, ‘মধুমতি নদীর চরে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভ্রমণে আসছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জোয়ার-ভাটার কারণে আকস্মিকভাবে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকায় দর্শনার্থীদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

জেলার ইতিহাস


দর্শনীয় স্থান