তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েও অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাজুর পড়াশোনা
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও অর্থাভাবে পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মেধাবী শিক্ষার্থী ওমর ওসমান রাজুর।কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের মহিষাখোলা গ্রামের বাসিন্দা রাজু ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ৯০তম স্থান অর্জন করেছেন। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫১তম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪৩তম স্থান অর্জন করে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।তবে চরম আর্থিক সংকটের কারণে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তায়। ভর্তির টাকা জোগাড় করতে বর্তমানে মাঠে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন তিনি।রাজুর মা ফাতেমা খাতুন জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে কিডনি রোগে তার স্বামী মারা যান। এরপর থেকে অন্যের বাসায় কাজ করে দুই সন্তানকে নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, ‘ছেলে পড়াশোনা করতে চায়, কিন্তু আমার সে সামর্থ্য নেই।’স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজু ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। তিনি জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুল থেকে ২০২৩ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে ৪.৯২ পয়েন্ট নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। শিক্ষক ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি বিনা খরচে পড়াশোনা চালিয়ে এসেছেন।রাজু জানান, পরিবারে আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় বই-খাতাও কিনতে পারেননি। বর্তমানে ভর্তির টাকা জোগাড় করতে দৈনিক মজুরিতে মাঠে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি বা সরকারি সহায়তা পেলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।’রাজুর বন্ধু ইমরান হোসেন বলেন, মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও অর্থের অভাবে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।এ বিষয়ে কুমারখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, রাজুর বিষয়টি জানা গেছে এবং তাকে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।