• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ২৪শে আষাঢ় ১৪৩৩ রাত ০৩:২১:১৫ (09-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:

কুমারখালীতে ব্রাজিলের পরাজয়ে যুবকের আত্মহত্যা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় রতন (২১) নামে এক যুবকের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।৬ জুলাই সোমবার সকালে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবার।ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, প্রিয় দল ব্রাজিলের পরাজয় মেনে নিতে না পেরে এবং প্রতিপক্ষ সমর্থকদের ট্রলের শিকার হয়েই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টিকে খেলার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার মতো কোনো অকাট্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।সোমবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট এলাকায় নিজ বাড়িতে রতনের ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। রতন পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন এবং দুই মাস বয়সী এক সন্তানের জনক।রোববার রাতে বাড়ির পাশে ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচের খেলা দেখে ব্রাজিলের পরাজয়ের পর রতন বেশ হতাশ ছিলেন। খেলা শেষে প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের বিভিন্ন কটাক্ষ ও ট্রলের কারণে তিনি মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েন। পরে বাড়িতে ফিরে নিজ কক্ষে গিয়ে গলায় ফাঁস দেন।নিহতের বাবা হোসেন মিস্ত্রির ভাষ্যমতে, রবিবার রাতে ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচটি দেখেন রতন। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের পরাজয়ে তিনি বেশ হতাশ ছিলেন। সোমবার সকালে অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের স্বজনদের দাবি, ফুটবলের অন্ধভক্ত ছিলেন রতন। প্রিয় দলের হারের পর প্রতিপক্ষ সমর্থকদের নানামুখী কটাক্ষ ও ট্রল তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলেছিল। এই হতাশা থেকেই তিনি চরম সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন বলে তাদের ধারণা।কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি সাধারণ আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। নিহতের মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খেলা শেষে রতন রাতে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমাতে গিয়েছিল।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনের বিষয়ে ওসি বলেন, মানুষ যেকোনো দলের সমর্থক হতেই পারে, এটি ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ বা ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে অনেকেই এই মৃত্যুকে খেলার সঙ্গে জড়িয়ে কাল্পনিক গল্প ছড়াচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উদ্ধার হয়নি। এমন কোনো প্রমাণ ছাড়া এটিকে খেলার হারের সঙ্গে যুক্ত করার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।