• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২৮শে আষাঢ় ১৪৩১ রাত ০৯:৪৭:৪৫ (12-Jul-2024)
  • - ৩৩° সে:
এশিয়ান রেডিও
  • ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২৮শে আষাঢ় ১৪৩১ রাত ০৯:৪৭:৪৫ (12-Jul-2024)
  • - ৩৩° সে:

কচুয়ায় সিজারের পর ডাক্তার না থাকায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যু

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের কচুয়ায় পেশেন্ট কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারের পর ডাক্তার না থাকায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে চিকিৎসাধীন প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ।জানা যায়, কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের সোনাকুড় গ্রামের বিলকিস বেগম (৩৫) নামে একজন গর্ভবতী মা বুধবার সিজারের জন্য আনুমানিক সকাল ১১টায় কচুয়ায় পেশেন্ট কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হয় ।সেখানে বাগেরহাটের ২৫০ সজ্জা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমদ্দার ও একই হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ইন্দ্রজিৎ বিকালে ওই প্রসূতি মায়ের সিজার সম্পন্ন করে বাগেরহাটে ফিরে যায় । পরবর্তীতে প্রসূতি মায়ের রক্তক্ষরণ শুরু হলে ক্লিনিকে কোন দায়িত্ব প্রাপ্ত ডাক্তার না থাকায় ক্লিনিকের ডিপ্লোমা নার্স সারমিন আক্তার তার চিকিৎসা করার চেষ্টা করেন।একপর্যায়ে প্রসূতি মায়ের রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় সে বাগেরহাটের ডা. অসীম কুমার সমদ্দারের পরামর্শে রাত ৯টার পরে রোগীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন । সেখানে গিয়ে রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে কিছু সময় পরেই রোগী মারা যায় ।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক ডা. ফয়সাল হোসেন নামে একজন ডাক্তার ২৪ ঘণ্টা থাকার কথা থাকলেও ওই দিন তিনি ছুটিতে ছিলেন । এছাড়াও ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একজন বৈধ ল্যাব টেকনোলজিস্ট থাকার কথা থাকলেও বৈধ কোন টেকনোলজিস্ট নেই । শাহীন নামে একজন সার্টিফিকেট বিহীন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে দিয়ে এ কাজ করান ।এ বিষয়ে মৃত বিলকিস বেগমের স্বামী শামিম ব্যাপারী বলেন, আমার স্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল তার কোন ধরনের অসুস্থতা ছিল না । ১৭ হাজার টাকা চুক্তিতে সিজারের জন্য আমার স্ত্রীকে কচুয়া পেশেন্ট কেয়ারে ভর্তি করি । পরে ৫টার দিকে ওটিতে নিয়ে যায়, এরপর বাইরে বসে কয়েকবার আমার স্ত্রীর চিৎকার শুনি । পরে নার্সকে জিজ্ঞেস করলে বলে ও কিছু না । আমার স্ত্রীর একটি পুত্র সন্তান হয় এবং ডাক্তার চলে যায়।রাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে । এ সময় ক্লিনিকে কোন ডাক্তার না থাকায় নার্স এবং আয়া সুস্থ করার চেষ্টা করে এক পর্যায়ে না পেরে বাগেরহাটের ডা. অশীম কুমার সমদ্দারকে ফোন দিলে তিনি দ্রুত খুলনা পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বলেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী স্ত্রীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরে মারা যায় । ক্লিনিকের গাফিলতির কারণেই তার স্ত্রী মারা গেছে বলে মৌখিক অভিযোগ করে তিনি এর বিচার দাবি করেন ।ক্লিনিকের পরিচালনা পর্ষদের কার্যকারী সদস্য মো. মেহেদী হাসান বলেন, অভিজ্ঞ ডা. অসীম কুমার সমদ্দারের মাধ্যমে আমরা ভালোভাবে সিজার সম্পন্ন করি । এ সময় রোগী সুস্থই ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে রোগী অসুস্থ হলে ডা. অসীম কুমার সমদ্দারের পরামর্শে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করি । পরবর্তীতে শুনি ওই রোগী নাকি মারা গেছে ।ক্লিনিকের পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রোগী আমাদের এখানে ভর্তি ছিল । ৯টার দিকে আমি একটু ছুটিতেছিলাম হঠাৎ শুনলাম রোগী অসুস্থ হয়ে পরেছে ।  ডা. অসীম কুমার সমদ্দারের পরামর্শে তাকে খুলনা পাঠানো হয়েছে । পরে রাত ২টার দিকে শুনতে পাই রোগী মারা গেছে । তবে নবজাতক শিশুটি সুস্থ আছে।এ বিষয় বাগেরহাট ২৫০ সজ্জ্বা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমদ্দার  মুঠোফোনে বলেন, আমি সিজার করেছি তখন মাও নবজাতক সুস্থ ছিল। পরে মা অসুস্থ্য হলে তাকে খুলনা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। শুনেছি রাতে প্রসূতি মা বিলকিস বেগম মারা গেছে ।

জেলার ইতিহাস


দর্শনীয় স্থান