শরীয়তপুরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে দুই শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ
শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের জাজিরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে দুই শতাধিক হাতবোমার (ককটেল) বিস্ফোরণ হয়েছে। ৪ ডিসেম্বর রোববার সকালে জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের বুধাইরহাট বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।ককটেলের আঘাতে জাবেদ শেখ (২০) নামের এক তরুণের কবজি ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। আহত জাবেদ শেখ উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের চেরাগআলী বেপারী কান্দি এলাকার দিপু শেখের ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কুদ্দুস বেপারী ও বিলাসপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এই নিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষে জড়ায় দু’পক্ষ।জানা যায়, শনিবার রাতে ইউনিয়নের বুধাইরহাট বাজার এলাকায় কুদ্দুস বেপারীর সমর্থক মান্নান বেপারী এবং জলিল মাদবরের সমর্থক নাসির বেপারীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে রোববার সকালে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ হয়। এসময় দুই শতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ককটেলের আঘাতে জাবেদ শেখের বাম হাতের কবজি ক্ষতবিক্ষত হয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তানভীর আহমেদ বলেন, ‘জাবেদ শেখ নামে এক যুবকের ককটেলের আঘাতে বাম হাতের কবজি ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এছাড়া তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, ‘কুদ্দুস বেপারী ও জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এতে দুপক্ষ দুই শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এক তরুণ আহত হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন এলাকা শান্ত রয়েছে। এখনও মামলা হয়নি এবং কেউ আটক হয়নি।’ওসি আরও বলেন, ‘জলিল মাদবর বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। আর কুদ্দুস বেপারী জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।’উল্লেখ্য, গেল বছরের ৫ এপ্রিল দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে আহত হয় অন্তত ১৬ জন।