স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর শহরের সুজাপুর গ্রামের বাসিন্দা ফুলবাড়ী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মামুনকে মাদকাসক্তি কেন্দ্রে দেওয়ায় স্ত্রী এবং শ্যালকের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ তুলেছেন স্বামী মামুন। এরই প্রতিবাদে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী স্ত্রী মোছা. মিনারা পারভীন ও শ্যালক জাহাঙ্গীর আলম মিলন।১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অনলাইন প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোছা. মিনারা পারভীন।তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী মো. দেলওয়ার হোসেন মামুন ২০২১ সাল থেকে নিয়মিত মাদকাসক্ত এবং একজন পরনারী আসক্ত ব্যক্তি। আমার স্বামী আমাকে নিয়মিত নির্যাতন ও শারীরিক ভাবে মারধর করেন এবং আমাকে ও আমার কন্যা সন্তানদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন।’তিনি আরও বলেন, ‘আমার দুই কন্যা সন্তানকে কোনো প্রকার ভরণপোষণ দেয় না। এইসব ঘটনা বন্ধ করতে তার বিরুদ্ধে আদালতে ইতিপূর্বে নারী নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। আমি আমার স্বামীকে অনেক চেষ্টা করেছি ভালো করার জন্য, কিন্তু সে কোনোভাবেই ভালো হতে চায় না। আমি বর্তমানে আমার ভাইয়ের বাসায় আশ্রিত রয়েছি।’মিনারা পারভীন বলেন, ‘আমার বড় মেয়ে ঢাকায় একটি বেসরকারি মেডিকেলে অধ্যায়নরত। আমার স্বামী আমার মেয়েকে প্রায়ই ফোন দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমতাবস্থায় আমি ও আমার সন্তানেরা আলোচনা সাপেক্ষে আমার স্বামীকে রংপুর শান্তি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রাখার পরামর্শ করি।’গত ২৭ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার সময় আমি ও আমার বড় মেয়ে আনিকা আক্তার রংপুর শাস্তি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে আসতে বলি এবং আমার স্বামীকে তাদেরকে দেখিয়ে দেওয়া হয়। তখন ওই মাদকাসক্তি কেন্দ্রের লোকজন আমার স্বামীকে ধরে গাড়িতে উঠাতে যায়। এ সময় আমার সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আমার স্বামীর মাথায় এবং চোখে গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগে ও সামান্য আহত হয়।‘তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমার স্বামীকে রংপুর শাস্তি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থেকে আমার শ্বশুর ও আমার দেবর জোরপূর্বক বের করে নিয়ে এসেছে। সেখান থেকে বের হয়ে এসে আমাকেসহ আমার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে থানায় অপহরণের অভিযোগ করেছে। আমি আমার স্বামীকে রংপুর শান্তি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে রেখে ভালো করার আশা করেছিলাম, যাতে আমার সন্তানেরা পিতৃস্নেহে বেড়ে উঠতে পারে। কিন্তু আমার স্বামী পরিবার বা সংসারের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা রাখতে চান না।’তিনি আরও বলেন, ‘তার করা অভিযোগে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে তাদের কেউই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। শুধু আমি ও আমার মেয়ে মোছা. আনিকা আক্তার ও রংপুর শাস্তি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন ছিলাম। আমি তার করা অপহরণের আভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে আমাদের প্রতি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য, হুমকি ধামকি ও গুম করার হুমকি প্রদানের প্রতিবাদ করছি। তিনি আমাদেরকে বিভিন্নভাবে আইনগত ঝামেলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন। আমরা তারও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’