শ্রীপুরে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু, হাসপাতাল ভাংচুর
গাজীপুর (উত্তর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রসূতির মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রুগীর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর করে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি করেছে।৯ মার্চ সোমবার সকালে উপজেলার মাওনা চৌরাস্তার লাইভ কেয়ার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।নিহত রুমা আক্তার (২৫) শ্রীপুর উপজেলার হেড়াপটকা গ্রামের মো. মানিক মিয়ার স্ত্রী। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার উজিলাব গ্রামের মো. আব্দুর রশিদের মেয়ে।নিহতের স্বজনরা জানান, রোববার সকাল ১১টার দিকে রুমা আক্তারকে সন্তান প্রসবের জন্য মাওনা চৌরাস্তার লাইভ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিজারিয়ান অপারেশনে তিনি এক ছেলে সন্তান প্রসব করেন। সোমবার ভোরে সেহরি খাওয়ার পর হঠাৎ করে তার পেট ফুলে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পথেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ।এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল ৭টার দিকে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে লাইভ কেয়ার হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলা কারীরা হাসপাতালের প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে ভেতরে থাকা ফার্মেসি, ওয়েটিং কক্ষ, রিসিপশন, ডাক্তারদের কক্ষ, বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, আসবাবপত্র, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যাপক ভাংচুর করে ধ্বংশ যজ্ঞ করে ফেলে। হামলায় প্রাণের ভয়ে হাসপাতালে কর্মরতরা পালিয়ে যায়।স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ রেখে বিক্ষোভ করছেন। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।শিশুর বাবা মানিক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ভুল চিকিৎসা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আজাহারুল ইসলাম পারভেজ জানান, অপারেশন করেন আশুলিয়ার নারী ও শিশু কেন্দ্র ডা. রাজশ্রী ভৌমিক, গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. রাজশ্রী ভৌমিক ও এনেসথিয়া করেন ডা. রেজুয়ান। রুগীর অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পাঠানো হয়।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি সাত কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।