• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ১লা চৈত্র ১৪৩২ বিকাল ০৩:১৭:৩২ (15-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:

খুলনায় শ্রমিক দল নেতাকে গুলি করে হত্যা, পিস্তলসহ গ্রেফতার ১

খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার ডাকবাংলো মোড়ে বাটার দোকানের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে মাসুম বিল্লাহ নামে এক শ্রমিক দল নেতাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ৪ মার্চ বুধবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি পিস্তলসহ অশোক নামের এক সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় ভুক্তভোগী ঈদের কেনাকাটা করতে ব্যস্ত ছিলেন।নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে। তিনি রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ছিলেন।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মাসুম রাত ৯টার দিকে ডাকবাংলোর বাটা শোরুমের ভিতরে কেনাকাটা করছিলেন। এসময় ৭ জন অস্ত্রধারীর একটি দল এসে মাসুম বিল্লাহকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পড়ে গেলে পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।পালিয়ে যাওয়ার সময় অশোক ঘোষ নামের একজনকে স্থানীয় জনতা আটক করে। প্রথমে তাকে পাশের একটি দোকানের মধ্যে রাখা হলে উত্তেজিত জনতা তাকে তাদের হাতে ছেড়ে দিতে বলে। পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।খবর পেয়ে পুলিশ এসেও নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পরে সেখানে সেনাবাহিনী এসে রাস্তা ফাঁকা করে আটক অশোক ঘোষকে পুলিশি হেফাজতে তুলে দেয়। অশোক ঘোষের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, রাত ৯টার দিকে ডাকবাংলো বাটা বাজারের মধ্যে ৭ জনের একটি অস্ত্রধারী দল এসে মাসুম বিল্লাহকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এসময় জনতা একজনকে আটক করে। অন্যদের পুলিশ গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে হত্যার কারণ জানা যায়নি।তিনি বলেন, অশোক তার সঙ্গে থাকা অন্যদের নাম পরিচয় প্রকাশ করেছে। তিনি খুলনার একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য। তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।এদিকে, ঘটনার পর পরই গুলিবিদ্ধ মাসুম বিল্লাহকে রক্তাক্ত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  কেএমপির একজন কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি টার্গেট কিলিং বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পেছনে পূর্বশত্রুতা, শ্রমিক সংগঠনের দ্বন্দ্ব বা আধিপত্য বিস্তার কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।