• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ২৮শে শ্রাবণ ১৪৩৩ সকাল ০৯:০২:৪১ (12-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:

পাঁচ বছরের মেয়েকে ঘরে তালাবদ্ধ রেখে স্কুলে যেতে হয় মাকে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: চাকরি করব, নাকি সন্তানকে আগলে রাখব? কর্মজীবী মায়েদের কাছে এই প্রশ্নটি যেন প্রতিদিনের বাস্তবতা। পটুয়াখালীর বাউফলে এমনই এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা উম্মে হাফছা সুমা। পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র মেয়েকে বাসায় একা রেখে তালা লাগিয়ে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে তাকে।সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে নিজের এই অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন ওই শিক্ষিকা। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।ওই শিক্ষিকার ভাষ্য, তার একমাত্র মেয়ের বয়স পাঁচ বছর সাত মাস। মেয়েকে দেখাশোনার জন্য বাসায় স্থায়ীভাবে কেউ নেই। শিশুটির বাবা চাকরির কারণে ঢাকায় থাকেন। ফলে সংসারের দায়িত্বের পাশাপাশি সন্তানকে একা সামলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিদিনই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উম্মে হাফছা সুমা বিদ্যালয় থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বাউফলের নাজিরপুর বাংলাবাজার এলাকায় বসবাস করেন। কর্মস্থলে যাওয়ার সময় মেয়েকে সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে সেটি নিয়মিত করা সম্ভব হয় না।উম্মে হাফছা সুমা বলেন, বাসায় আমি আর আমার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে থাকি। আগে মাঝে মধ্যে মেয়েকে সঙ্গে করে স্কুলে নিয়ে যেতাম। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে এখন আর তাকে সঙ্গে নেওয়া সম্ভব হয় না। একপর্যায়ে পরিচিতজনদের বাসায় রেখে স্কুলে যেতাম।তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় কয়েকদিন ধরে মেয়েকে বাসায় রেখেই দরজায় তালা দিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। যে ঘরে সে থাকে সেখানে সিসি ক্যামেরা রয়েছে এবং সেটি আমার মোবাইলের সঙ্গে সংযুক্ত। স্কুলের অফ টাইমে আমি মোবাইলের মাধ্যমে মেয়েকে দেখি এবং তার সঙ্গে কথা বলি।নিজের এই কষ্টের কথা জানাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টটি দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, পোস্টটি দিয়েছিলাম, যেন বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং কোনো একটা ব্যবস্থা হয়। কিন্তু পরে বিভিন্নজনের নানা মন্তব্যের কারণে পোস্টটি মুছে ফেলেছি।স্থানীয়দের মতে, পাঁচ বছরের একটি শিশুক দীর্ঘ সময় একা বাসায় রেখে যাওয়া যেমন ওই মায়ের জন্য চরম মানসিক চাপের, তেমনি শিশুটির নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। কর্মজীবী মায়েদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করা এবং প্রয়োজনে কর্মঘণ্টায় কিছুটা নমনীয়তা আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা প্রয়োজন।এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। আমার জানামতে উপজেলা বা জেলা পর্যায়ে সরকারি কোনো ডে-কেয়ার নেই। তবে যেসব কর্মজীবী মায়ের ছোট সন্তান রয়েছে, তাদের জন্য ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

জেলার ইতিহাস


দর্শনীয় স্থান