সেতু ও অবকাঠামো খাতে ৩.৪ বিলিয়ন জাপানি বিনিয়োগ
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের সেতু ও অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনতে ভূমিকা রেখেছে বিনিয়োগ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল। জাপানের মিয়াগাওয়া কেনসেতসু কনস্ট্রাকশন কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে ভোলা–বরিশাল ও শরীয়তপুর–চাঁদপুর সেতু নির্মাণে এ বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণে জাপানের বড় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া কেনসেতসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে নির্বাচিত করেছে দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় (এমএলআইটি)। প্রকল্পটিতে মিয়াগাওয়া কেনসেতসুর স্থানীয় অংশীদার হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশের স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড।সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাপান–বাংলাদেশ যৌথ প্ল্যাটফর্মের অষ্টম সভায় ভোলা–বরিশাল সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি এবং জাপানি বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রকল্পটির পরবর্তী কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোলা–বরিশাল ও শরীয়তপুর–চাঁদপুর সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের গতি বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।জাপানি প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া কেনসেতসুর বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও প্রকল্প সম্প্রসারণে গত কয়েক বছর ধরে কাজ করছে স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল। বিনিয়োগ কাঠামো প্রণয়ন, প্রকল্প উন্নয়ন, কৌশলগত পরামর্শ এবং স্থানীয় অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতা করছে।স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। ভোলা–বরিশাল সেতু শুধু একটি যোগাযোগ প্রকল্প নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।”তিনি বলেন, “মিয়াগাওয়া কেনসেতসুর সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্বের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি, দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাংলাদেশে নিয়ে আসা। প্রকল্পটির আর্থিক ও বিনিয়োগ কাঠামো নিয়ে আমরা বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছি, যাতে এটি জাপানি অংশীদারদের কাছে বাস্তবসম্মত ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।”সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ আরও বলেন, “বাংলাদেশে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সরকারি নীতিগত সহায়তা ও সঠিক অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে জাপানসহ অন্যান্য দেশ থেকেও আরও বড় বিনিয়োগ আনা সম্ভব।”স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল জানিয়েছে, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। দীর্ঘমেয়াদে এসব প্রকল্প আঞ্চলিক অর্থনীতি, উৎপাদনশীলতা ও জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থাও আরও বাড়বে।
২৯ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:০৫:৫৭