• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ২৮শে শ্রাবণ ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৭:৩৫:৪৪ (12-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:

নওগাঁর ৫টি প্রতিষ্ঠানের কেউই পাশ করতে পারেনি

নওগাঁ প্রতিনিধি: চলতি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নওগাঁর পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কেউই পাশ করতে পারেনি। এরমধ্যে দুইটি নন-এমপিওভুক্ত।অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: সাপাহার উপজেলার ভাবুক নইমুদ্দিন সরকার দাখিল মাদ্রাসা, পত্নীতলা উপজেলার চকনোদবাটি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, নিয়ামতপুর উপজেলার পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ এবং বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা।সাপাহার উপজেলার ভাবুক নইমুদ্দিন সরকারি দাখিল মাদ্রাসা থেকে এসএসসি ও সমমান দাখিল পরীক্ষায় ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউই পাস করতে পারেনি। এ প্রতিষ্ঠানটিতে ১৫ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী কর্মরত থাকার পরও এমন ফলাফল নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আতাউল্লাহ বলেন, করোনা ভাইরাসের মহামারিতে দুর্যোগের কারণে পরিবারগুলো অসচ্ছল হয়ে পড়ে। যার কারণে সচেতনতার অভাবে এই ফলাফল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামসুল কবীর বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাশ না করায় দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হবে।অপরদিকে, পত্নীতলা উপজেলার চকনোদবাটি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৯ জন শিক্ষার্থী। চূড়ান্ত ফলাফলে অকৃতকার্য হয়েছেন শতভাগ পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থীও পাসের মুখ দেখতে পাননি। এমন বিপর্যয়কর ফলাফলে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, শিক্ষকদের অনিয়ম ও তদারকির অভাবেই ভেস্তে গেছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুতই ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।তবে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননা।পত্নীতলা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোরশেদুল আলম বলেন- চকনোদবাটি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার কেউ পাশ করতে পারেনি। বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগত করা হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।এদিকে, নিয়ামতপুর উপজেলার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজনও পাস করতে পারেনি। তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও একটি কারিগরি  (ভোকেশনাল) প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান নন-এমপিওভুক্ত।প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় (নন-এমপিওভুক্ত), নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ (নন-এমপিওভুক্ত) এবং বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা।পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নয়জন, নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ থেকে সাতজন এবং বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হলেও নবম-দশম শ্রেণি এমপিওভুক্ত নয়। ওই দুই শ্রেণিতে কোনো শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চায় না। নয়জন শিক্ষার্থী ছিলো। কোন রকম আমরা পাঠদান করতাম। এজন্য ফলাফল খারাপ হয়েছে।নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজনুর রহমান মন্ডল বলেন, ২০১১ সালে ভোকেশনাল শাখা খোলার পর থেকে এখন পর্যন্ত এমপিও হয়নি। ভোকেশনাল কোনো শিক্ষকও নেই। কলেজ শাখার শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নিতে হয়। ভোকেশনাল শাখায় সাধারণত কর্মজীবী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। তারা ক্লাস করতে আগ্রহী না। সাতজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়। ভোকেশনাল শাখা এমপিও হলে অবস্থার উন্নতি হবে বলে জানান তিনি।বরিয়া দাখিল মাদ্রাসার  সুপার মো. আব্দুল মান্নান বলেন, এবারে তার প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সকলেই অকৃতকার্য হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসতে চায় না। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আগামীতে শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করে একটা ভালো ফলাফল করতে হবে।এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. মুর্শিদা খাতুন বলেন, নিয়ামতপুরে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ ফাঁকা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক সুপারভাইজারও নেই। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যথাযথ তদারকি করা সম্ভব হয়নি। এতে ফলাফল খারাপ হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলায় একজন একাডেমিক সুপারভাইজার যোগদান করেছেন। আশা করা যাচ্ছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মনিটরিং বৃদ্ধি করা যাবে।

জেলার ইতিহাস


দর্শনীয় স্থান