• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৭:৫০:৪৪ (21-May-2026)
  • - ৩৩° সে:

দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় রামিসা

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর পল্লবীতে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার শিকার সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। ২০ মে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানাজা শেষে ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী গ্রামের মোল্লাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।জাগো নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দাফনের আগে রাত ৮টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রামিসার মরদেহ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। মরদেহ পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।জানাজায় আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। দাফনের সময় শিশুটির বাবা হান্নান মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।রামিসা মধ্য শিয়ালদী গ্রামের মরহুম হেলাল উদ্দিন মোল্লার নাতনি। তার বাবা হান্নান মোল্লা। সে রাজধানীর পল্লবীর পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।এদিকে, হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মুন্সিগঞ্জ শহরে মশাল মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।অন্যদিকে, এ ঘটনায় গ্রেফতার সোহেল রানা বুধবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। একই মামলায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগ।পুলিশ জানায়, গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নেওয়ার সময় শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা অনুসন্ধান শুরু করেন।একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান স্বজনরা। পরে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হলেও সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।এ ঘটনায় রামিসার বাবা পল্লবী থানায় সোহেল রানা, স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, শিশুটিকে ফ্ল্যাটে নেওয়ার সময় সেখানে আরও একজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। স্বজনরা দরজা ভেঙে ঢোকার আগেই তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান।