• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ রাত ০৮:৪৩:৩৬ (21-May-2026)
  • - ৩৩° সে:
সংবাদ ছবি

১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন

অনলাইন ডেস্ক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে এটি একযোগে নয়, তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাজেটসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আহরণের সার্বিক পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। পরে সবদিক বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী জুলাই থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন। অর্থমন্ত্রীর আসন্ন বাজেট বক্তৃতার খসড়াতেও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পুরো পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বিশাল এই ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকেই নতুন কাঠামোর অধীনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এজন্য আসন্ন বাজেটে অতিরিক্ত ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সমন্বয় করা হবে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, তিন ধাপে বাস্তবায়নের ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না এবং সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।এর আগে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হচ্ছে। তবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই কাঠামো কার্যকর হলে গ্রেডভেদে বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮ এ নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।