• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ১০ই ভাদ্র ১৪৩৩ রাত ০৮:১৮:১৩ (25-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:

বাজার সিন্ডিকেটের অভিযোগ

পিরোজপুরে চরম সংকটে সাড়ে চার হাজার পোল্ট্রি খামার

২৫ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৩০:৪৯

পিরোজপুরে চরম সংকটে সাড়ে চার হাজার পোল্ট্রি খামার

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরে পোল্ট্রি খামারিদের মুরগির খাবার দাম, উৎপাদন ব্যয়, বাজারদর ওষুধ-ভ্যাকসিন, বিদ্যুৎ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি এর পর মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরত্ব, এ সবই এখন বাড়তি ব্যয়ের বোঝা খামারীদেরে। ফলে প্রতিটি ডিমে লোকসান গুনছেন অনেক প্রান্তিক খামারির।
খামারিদের অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগী ও বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজিতে তারা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
                                                      
ডিম উৎপাদনের জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা পিরোজপুর। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, পিরোজপুর সদর সহ ৭ উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এসব খামারে বৎসরের উৎপাদিত হয় প্রায় ৪২ কোটি ডিম। যা দেশের এক তৃতীয় অংশ ডিমের চাহিদা পূরণ  হচ্ছে। বিশেষ করে নেছারাবাদ ও নাজিরপুরে গড়ে উঠেছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাণিজ্যিক মুরগির খামার।‌

পোল্ট্রি খামারি হারুন বলেন, ডিমের উৎপাদন বাড়লেও স্বস্তিতে নেই খামারিরা। ওষুধ, বিদ্যুৎ, শ্রমিকের মজুরি, মুরগির খাবারসহ একের পর এক দাম বৃদ্ধির সঙ্গে বাজারে ডিমের দামের ওঠানামায় লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন খামারিদের। একাধিক খামারিরা বলেন, একটি মুরগিকে ডিম উৎপাদনের উপযোগী করে তুলতে শুরু থেকেই নানা ধরনের ব্যয় বহন করতে হয়। বাচ্চা কেনা থেকে শুরু করে খাবার, ওষুধ, ভ্যাকসিন, বিদ্যুৎ, শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর খরচই এখন আগের তুলনায় বেশি।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঋণ বা বাকিতে উপকরণ নেওয়ার কেনা। অনেক খামারি পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাচ্চা, ওষুধ ও অন্যান্য উপকরণ বাকিতে নেন। ফলে পরবর্তীতে উৎপাদিত ডিম বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। প্রতি সপ্তাহে দুই দিন ডিম বিক্রি করা হয়। খামারীদের অভিযোগ ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক খামারিরা।

পিরোজপুরে এক খামারি বলেন, “আমরা অনেক সময় বাকিতে বাচ্চা ও ওষুধ নিই। পরে ডিম বিক্রির সময় তাদের ওপর নির্ভর করতে হয়। নিজের মতো করে বাজারজাত করার সুযোগ সব সময় থাকে না।” আর এখানেই রয়েছে একটি বড় ধরনের সিন্ডিকেট"।
                                
পোল্ট্রি ওষুধ ব্যবসায়ীরা বলেন,“আমরাও আগের মতো দামে ওষুধ বা উপকরণ পাই না। গত ৫ বছর ধরে দাম বাডছে। আয়-ব্যয় ডিমের বাজারদর সব মিলিয়ে পুশিয়ে উঠতে না পারায় এ ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে অনেক খামারীরা। ডিম ব্যবসায়ীরা জানান,“খামারিদের কাছ থেকে আমরা ডিম নিয়ে থাকি বাজারে সেন্টিগ্রেটেড কারণে ডিমের ‌দামের ওঠানামা হয়।

খামারীরা বলেন, সপ্তাহের নির্দিষ্ট দুই দিনে ব্যবসায়ীদের সমিতির মাধ্যমে বাজারদর নির্ধারণ করা ডিমের দাম। উৎপাদকদের স্বার্থ সব সময় বিবেচনায় নেওয়া হয় না।

ডিম ও পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মিজান বলেন,“আমরা নিজেরা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করি না। বাজারে চাহিদা ও সরবরাহ, ডিম নষ্ট হয়ে যাওয়া, পরিবহন খরচ এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর দাম নির্ভর করে ব্যবসায়ী সমিতি ডিমের দাম নির্ধারণ করেন”।

'স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া ব্যবস্থায় উৎপাদক ও ভোক্তার মাঝখানে একাধিক স্তর থাকায় প্রকৃত বাজারদরের সুফল অনেক সময় খামারিরা পান না। এই অনিশ্চয়তায় উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন খামারিরা।

আড়ৎদা ইকবাল হোসেন বলেন, “আমরাও বাজারদরের ওপর নির্ভর করে ডিম কিনি ও বিক্রি করি। পরিবহন, শ্রমিক, নষ্ট হওয়া ডিমসহ আমাদেরও বিভিন্ন খরচ রয়েছে। বাজারে দাম কমলে আমাদেরও ক্ষতি হয়।”

শুধু খামারি নয়, এই শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত শ্রমিকদের আয়-রোজগারও নির্ভর করছে খামারের টিকে থাকার ওপর”। শ্রমিক বলেন, “প্রতিদিন ভোর থেকে কাজ করতে হয়। খামারি লোকসানে পড়লে আমাদের ওপর তার প্রভাব পড়ে। “আমরা চাই সরকার উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের মধ্যে সমন্বয় করুক। খামারি যেন ন্যায্য দাম পায় এবং ভোক্তাও যেন অযথা বেশি দামে ডিম কিনতে বাধ্য না হয়।”

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার শিকদার বলেন, পিরোজপুরের পোল্ট্রি খাত শুধু ডিম উৎপাদন করে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে খামারি, শ্রমিক, ওষুধ ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, আডৎতদার ও ডিম ব্যবসায়ীদের জীবিকা। আয়-ব্যয় সমন্বয় এ শিল্পকে টিকে রাখা চেষ্টা আমাদের রয়েছে।
                                                  
উৎপাদন ব্যয়ের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আর বাজারে ডিমের অস্বাভাবিক দরপতনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন খামারিরা। পোল্ট্রি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে মধ্যস্বত্বভোগী ও বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিমের দাম নির্ধারণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন খামারিরা। তা না হলে সংকটে পড়তে পারে সম্ভাবনাময় এ শিল্প।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ










নতুন দায়িত্ব পেলেন ডা. জাহিদ
নতুন দায়িত্ব পেলেন ডা. জাহিদ
২৫ আগস্ট ২০২৬ বিকাল ০৪:০৮:০৫