নারায়ণগঞ্জে অনলাইন ট্রেডিংয়ের প্রলোভনে অভিনব প্রতারণা, গ্রেফতার ২
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: অনলাইন ট্রেডিং অ্যাপসে বিনিয়োগ করলে অল্প সময়ে মোটা অঙ্কের লাভ হবে, এমন প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ।৯ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে এক প্রেস রিলিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ। এর আগে, গত ৬ জুলাই রাতে পৃথক অভিযানে ঢাকার আফতাবনগর ও নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতাররা হলেন, মো. নাজমুল হোসেন (৪১)। তিনি ঢাকার বাড্ডা থানার আফতাবনগর (জহুরুল হক সিটি), বাসা নং-৪৩, রোড নং-৭, ব্লক-এল এলাকায় বসবাস করতেন। অপরজন মো. হাবিব মিয়া (৩০)। বর্তমানে তিনি ফতুল্লা থানার ভোলাইল শান্তিনগর জামে, ওয়ার্ড নং-২ এলাকায় বসবাস করতেন। গ্রেফতারদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত একদিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. নুর কামাল আজাদ নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজারে ব্যবসা পরিচালনা করেন। গত ২ মে হোয়াটসঅ্যাপে ‘কামাল খান’ পরিচয়ধারী এক ব্যক্তি আন্তর্জাতিক ট্রেডিং ব্যবসার প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে একটি ভুয়া অনলাইন ট্রেডিং ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে বিনিয়োগ করলে উচ্চ মুনাফার আশ্বাস দেওয়া হয়।প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগের পর তার অ্যাকাউন্টে লাভ দেখানো হয়। এতে আস্থা তৈরি হলে বিভিন্ন বিকাশ নম্বর ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ১০ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত ধাপে ধাপে মোট ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা প্রতারকদের কাছে পাঠান তিনি। পরে কোনো অর্থ ফেরত না পেয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে থানায় মামলা করেন।পিবিআই জানায়, চক্রটি ফেসবুক, এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, মেসেঞ্জার ও ভাইবারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করত। ভুয়া ট্রেডিং অ্যাপসে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর সেই অর্থ দ্রুত ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে দেশ-বিদেশে থাকা সহযোগীদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।অভিযানের সময় গ্রেফতারদের কাছ থেকে একাধিক স্মার্টফোন ও একটি পকেট রাউটার জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এছাড়া কম্বোডিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী সহযোগীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে।পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে প্রতারণা চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছে। অনলাইনে বিনিয়োগ বা ট্রেডিংয়ের নামে অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে কেউ যেন অর্থ লেনদেন না করেন। এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।তিনি বলেন, এক দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের পুনরায় আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।