দলে ফেরা নিয়ে যে শর্ত দিলেন রুমিন ফারহানা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসন (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। নির্বাচনের পরদিন হাঁস কোলে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে দলে ফেরা প্রসঙ্গে বিভিন্ন শর্তের কথা জানান বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এই নেত্রী।রুমিন ফারহানা বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য ছিলেন। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় গত ৩০ ডিসেম্বর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্ত থাকার অভিযোগে সরাইল উপজেলা, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ১০ নেতাকেও বহিষ্কার করে বিএনপি।সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানা বলেন, তাকে দলে ফিরিয়ে নিতে হলে তার সঙ্গে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদেরও দলে পুনর্বহাল করতে হবে।নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে হাঁস বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে হাঁস-মুরগি পালনের স্মৃতি রয়েছে তার। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তার হাঁস-মুরগি রয়েছে এবং অবসর সময়ে তাদের সঙ্গে সময় কাটান। সেই আবেগ ও স্মৃতির কারণেই হাঁস প্রতীক নির্বাচন করেছেন বলে জানান তিনি।নিজের রাজনৈতিক পথচলাকে কঠিন উল্লেখ করে রুমিন বলেন, তার চেয়েও কঠিন সময় পার করেছেন তার নেতাকর্মীরা। তিনি বলেন, ‘আমি না জিতলে হয়তো ঢাকায় ফিরে গিয়ে পেশায় যুক্ত হতাম। কিন্তু আমার কর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর নানা কষ্ট সহ্য করেছেন। তাদের এই ভালোবাসার ঋণ কীভাবে শোধ করব?’তিনি অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর বিভিন্ন স্থানে ভোটে কারচুপির চেষ্টা হয়েছে এবং ফলাফল আটকে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জালিয়াপাড়া কেন্দ্রে গিয়ে প্রতিপক্ষের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, সেখানে পুনরায় ভোট গণনায় কিছু ‘ভুয়া ভোট’ পাওয়া গেছে।উল্লেখ্য, বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব-কে ৩৮ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করে বিজয়ী হন রুমিন ফারহানা। হাঁস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।