• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ২০শে মাঘ ১৪৩২ রাত ০২:২১:২৬ (03-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেই অগ্রগতি, হতাশ নদীপাড়ের মানুষ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেই অগ্রগতি, হতাশ নদীপাড়ের মানুষ

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা তিস্তা নদীর ওপর নির্ভরশীল। কৃষি, মৎস্য ও তীরবর্তী জনপদের প্রধান ভরসা হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় নদীভাঙন ও পানিসংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষ।স্থানীয়দের অভিযোগ, উজানের আগ্রাসনে প্রতি বছর নদীভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে হাজারো পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। অথচ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এসব সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব ছিল বলে মনে করেন তারা।জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। গত বছর পানি সম্পদ উপদেষ্টা ১ জানুয়ারি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ঘোষণা দিলেও ঘোষণার ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও মাঠপর্যায়ে কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।দীর্ঘদিন ধরে পানিসংকট, নদীভাঙন ও কৃষি বিপর্যয়ে জর্জরিত উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ছিল শেষ আশার প্রতীক। তবে বাস্তব অগ্রগতি না থাকায় সেই আশা এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে।তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ভূ-রাজনীতির মারপ্যাচে পড়ে বারবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে মানুষকে শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জানুয়ারিতেই কাজ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু মাঠে কোনো কাজ নেই। এটি তিস্তা অববাহিকার মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’তিস্তা নদীতীরবর্তী সাহাবাজ গ্রামের কৃষক আহম্মদ আলী ও সোবহান মিয়া জানান, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় সেচ সংকটে আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে বর্ষায় নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটে নদীপাড়ের মানুষের।তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতারা বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব এবং বর্ষায় ভয়াবহ ভাঙন- এই দ্বিমুখী সংকট থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে নদীর দুই পাড়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং লাখো পরিবার নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।আসাদুল হাবিব দুলু আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও প্রকল্পের কাজ শুরু না করায় ক্ষোভ বেড়েছে। নির্বাচন শেষে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুর অঞ্চলে জোরালো আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।