• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১০ই আষাঢ় ১৪৩১ বিকাল ০৩:৩০:৩৪ (24-Jun-2024)
  • - ৩৩° সে:
এশিয়ান রেডিও
  • ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১০ই আষাঢ় ১৪৩১ বিকাল ০৩:৩০:৩৪ (24-Jun-2024)
  • - ৩৩° সে:

মতামত

মার্কিন ভিসানীতি: মত প্রকাশ ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিপন্থী

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সন্ধ্যা ০৬:০১:১৪

মার্কিন ভিসানীতি: মত প্রকাশ ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিপন্থী

মিনার সুলতান: রাজনৈতিক দলের সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাবেক-বর্তমান সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি গণমাধ্যমও আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে যুক্ত হবে। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের এক অনুষ্ঠানে এই কথা বলেছেন। প্রশ্ন হলো, এতে কি গণমাধ্যম আর স্বাধীন থাকছে? স্বাধীনভাবে গণমাধ্যম কি তার ভূমিকা পালন করতে পারবে?

সংবাদমাধ্যম গণমানুষ ও গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। এর প্রধান লক্ষ্য জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। সুবিধা-অসুবিধার কথা তুলে ধরাসহ সার্বিক দিক বিবেচনায় গণমাধ্যম স্বাধীন ভূমিকা পালন করে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস যখন বলেছেন, আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে গণমাধ্যমও যুক্ত হবে তখন কি বাংলাদেশের গণমাধ্যম আর স্বাধীন আচরণ করতে পারবে? নিশ্চয় না।

গণমাধ্যম অবরুদ্ধ করার এই প্রক্রিয়া কিন্তু নতুন নয়, আগেও ছিল এখনো তা বিদ্যমান। কখনো কৌশলে কখনোবা অপকৌশলে গণমাধ্যমকে শক্তিশালী দল, দেশ, রাজনৈতিক শক্তি বেঁধে ফেলতে চায়। ২০০১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঠিক তথ্য প্রচারের কারণে বিএনপি জামায়াত সরকার একুশে টেলিভিশনকে সাময়িকভাবে সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছিল। সায়মন ড্রিং-এর ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। প্লেনে ওঠার আগে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সায়মন ড্রিং বলেছিলেন, ‘প্রথমবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এই দেশ থেকে আমাকে তাড়াতে পারেনি, আর এবার কি না বিনা দোষে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার আমাকে এভাবে বের করে দিল?’ সায়মন ডিং-এর সহকর্মী যারা ছিলেন এই কথা এখনও তাদের কানে বাজে। সেই অপরাধবোধ এখনো তাদের ভোগায়।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের এই বক্তব্য বা আচরণের সাথে বিএনপি জামায়াতের আচরণের কেন জানি সামঞ্জস্যতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি জামায়াত সেইসময় ছিল ক্ষমতায়। তারা যা খুশি তাই করতে পারতো এবং করেছও। না হয়, সেই সময়ের সর্বাধিক জনপ্রিয় একটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া সাহস কেউ করতো না।

স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সবার যেতে হয়। বিশ্বের মোড়ল দেশ হিসেবে তারা তাদের শক্তি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। েতাই তারাও বিএনপি জামায়াতের মতো একই স্বৈরতান্ত্রিক আচরণে নিজেদের উপবিষ্ট করেছে। স্বৈরতান্ত্রিক এই আচরণ গণমাধ্যমের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে গণমাধ্যম স্বাধীন আচরণ থেকে সরে যায়, সত্য প্রকাশে অনীহা প্রকাশ করে। গণতান্ত্রিক সমাজে স্বতঃসিদ্ধ বিশ্বাস যে মিডিয়া স্বাধীন এবং সত্য উদ্ঘাটনে ও তা রিপোর্ট করার প্রতি দায়িত্বশীল। ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীগুলো যেভাবে দেখাতে চায়, মিডিয়া কেবল সেভাবেই বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না। শুধু তথ্য, বিনোদন ও শিক্ষা দিয়েই নয়; বরং এই তিনটি কাজের মাধ্যমে বলীয়ান হয়ে গণমাধ্যম এখন মানুষের মতামতকে নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস যেভাবে গণমাধ্যমে ভিসা নীতিতে যুক্ত করছে তাতে কি বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে? মার্কিন নির্বাচনের খবর নিয়ে আপনি জানবেন তারা কী করেছে। মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে 'গুগলে বিজ্ঞাপন কিনেছিল রুশরা' (বিবিসি, ১০ অক্টোবর ২০১৭)। মার্কিন গণমাধ্যমকে প্রোপাগান্ডা প্রতিষ্ঠান বললেন টাকার কার্লসন (সময় টিভি অনলাইন, ১০ মে ২০২৩)।

২০১৬ সালের নভেম্বর মাস। আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গরম হাওয়া বইছে পুরো বিশ্ব জুড়েই। ডেমোক্রেট হিলারি ক্লিনটন বনাম রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প। কে চার বছরের জন্য হোয়াইট হাউসের অধিপতি হবেন? পোল খুলে মার্কিনিদের জনমত বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে। অধিকাংশ পোলেই হিলারি ক্লিনটন এগিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মার্কিনিরা একজন নারী প্রেসিডেন্ট পেতে যাচ্ছে, এই বিষয়ে মোটামুটি নিশ্চিত ছিলেন সবাই। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলের সময় সবার অনুমান ভুল প্রমাণিত হয়ে গেল। হিলারি ক্লিনটনের পরিবর্তে আলোচিত-সমালোচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়ে মসনদে বসলেন।

কীভাবে তা হলো? নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন নির্বাচনকে একপেশে করতে ডোনাল্ড ট্রাম্প অঢেল অর্থ ব্যয় করেছেন। সেই জায়গায় গণমাধ্যম থেকে শুরু করে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা সবাই যুক্ত ছিল।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের জনগণেরও ধারণা ছিল যুক্তরাষ্ট্র বুঝি খুব উন্নত দেশ, তাদের মানসিকতাও উন্নত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যে হামলার ঘটনা ঘটে তা শতাব্দীর সেরা বর্বরতর ঘটনার একটি। এভাবে যে আক্রমণ করা যায় তা না দেখলে বিশ্বাস করা যেত না।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ভিসা নীতিতে গণমাধ্যম যুক্ত করার বিষয়টি যেভাবে তাতে বোঝা যাচ্ছে তারাও বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে তাদের মতো পরিচালিত করতে চাইছে। এতে করে মার্কিন গণমাধ্যম যে ধরনের আচরণ করে, তারা চাইছে বাংলাদেশের গণমাধ্যমও তাদের মতো যেন আচরণ করে। ফলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে স্বকীয়তা বা স্বতন্ত্রতা নষ্ট হয়ে যাবে নিশ্চিত, যা অনুচিত।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ