প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: জিয়াউর রহমান হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নালিশ করে তাদের ওপরে নাকি খুব অত্যাচার। অত্যাচার তো আমরা করি নাই, করেছে বিএনপি-জামায়াত জোট। জিয়াউর রহমান এসে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে। সেনাবাহিনীর মুক্তিযুদ্ধা অফিসার, সৈনিক থেকে শুরু করে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে নির্বিচারে ফাঁসি দিয়েছে, গুলি করেছে, হত্যা করেছে। পরিবারগুলো তাদের লাশও পায়নি। সব লাশ গুম হয়ে গেছে।
২৭ মার্চ সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপিসহ বিরোধীদের নানা অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করা এবং প্রথমে লেবাস পড়ে ক্ষমতা যাওয়া, রাজনীতিকে গালি দিয়ে ক্ষমতা দখল করে, আবার সেই লেবাস খুলে নিজেরাই রাজনীতিক হয়ে যাওয়া এবং ক্ষমতার উৎসৃষ্ঠ বিলীয়ে দখলের কালচারটাই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে। অবৈধ দখলকারীদের হাতে তৈরি করা যে সংগঠন, তারা নাকি গণতন্ত্র চায়। যাদের জন্মই গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে হয়নি। যাদের জন্ম মিলিটারি ডিক্টেটেডের মধ্য দিয়ে, তারা আবার গণতন্ত্র চায়। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র দেয়নি, তারা গণতন্ত্র দেবে। গণতন্ত্রের জন্য নাকি তারা লড়াই করে।
তিনি বলেন, ওদের জিজ্ঞেস করতে হয়, তোদের জন্মটা কোথায়? অবৈধ দখলদারী এটা তো আমাদের কথা না। আমাদের উচ্চ আদালত বলে দিয়েছে যে, জিয়া ও এরশাদ সম্পূর্ণ অবৈধ। তারপর তারাও নাকি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামও করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার হত্যাকরীদের ইনডেমনিটি দিয়ে পার্লামেন্টে বসিয়েছে। জিয়াউর রহমান তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। এরশাদ তাদের দল গঠন করতে দিয়েছে। কর্নেল ফারুককে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে দিয়েছে। রশিদ আর হুদাকে খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোট চুরি করে সেই ভোটে তাদের পার্লামেন্টে এনে লিডার অব দ্যা অপজিশনের সিটে বসিয়েছে। মানবধিকার কথা বলে, আমরা যারা ১৫ আগস্টে আপন জন হারিয়েছি, তাদের কী মানবধিকারের কোনো সুযোগ নাই। আমি তো বিচার চাইতে পারিনি আমার বাবা-মায়ের। তারা আজকে এতো কথা কোথায় থেকে বলে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সরকার প্রধান বলেন, আমাদের দেশে কিছু মানুষ আছে যারা নিজেদের বুদ্ধিজীবী বলে পরিচয় দেন, জ্ঞানী-গুণী বলে পরিচয় দেন, তাদেরও মুখে শুনি- দেশে নাকি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। আমার এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে মিলিটারি ডিক্টেটরদের সময় যারা মার্শাল ল’ দিয়ে রাষ্ট্র চালিয়েছিল, সেটাকেই কি তারা গণতন্ত্র বলতে চান? ওটাই কি তাদের গণতান্ত্রিক ধারা ছিল?
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাম্বাসেডর মোহাম্মদ জমির, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাহজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমূখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ ও উপ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল শামীম।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2025, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available