• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১০ই আষাঢ় ১৪৩১ বিকাল ০৩:৫৬:৫৭ (24-Jun-2024)
  • - ৩৩° সে:
এশিয়ান রেডিও
  • ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১০ই আষাঢ় ১৪৩১ বিকাল ০৩:৫৬:৫৭ (24-Jun-2024)
  • - ৩৩° সে:

সারাবাংলা

নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হলো গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’

৮ জুন ২০২৪ সকাল ১১:৩৪:৪৯

নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হলো গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’

নওগাঁ প্রতিনিধি:  স্থানীয় সামাজিক সংগঠন একুশে পরিষদের উদ্যোগে ৭ জুন শুক্রবার বিকেলে নওগাঁ সদর উপজেলার লখাইজানি গ্রামের মাঠে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তান্ত্রিক-সন্যাসীদের তন্ত্র-মন্ত্রের এ খেলা দেখতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী হাজারো নারী-পুরুষ।

তান্ত্রিক-সন্যাসীদের এ বিশেষ খেলায় মাঠের মাঝে পুঁতে রাখা হয় এক আস্ত কলা গাছ। গাছের গোড়ায় মাটির ঘটিতে রাখা হয় আমের পাতা ও পানি। আর পাশেই আরেকটি বাটিতে থাকে মন্ত্র পড়া দুধ-কলা। কলার গাছ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে খেলোয়াড়দের জন্য চক্রাকারে দড়ি বেঁধে তৈরি করা হয় খেলার মাঠ। যেখানে খেলোয়াড় ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারেন না। ঘটির পানিতে ভিজিয়ে খেলোয়াড়রা মাটিতে হাত রেখে শুরু করেন মন্ত্র পড়া। তাদের মন্ত্রের প্রভাবে নির্ধারিত পাতা তথা সন্যাসীরা নানা ভঙ্গিমায় নাচ ও শারীরিক কসরত করে দর্শকদের আনন্দ দেন। এভাবেই এক সময় শেষ হয় এই ‘পাতা খেলা’।

শুক্রবারের খেলায় ওঝা বা তান্ত্রিক এবং পাতা বা সন্যাসী মিলিয়ে ২০ জন অংশ নেন। বাদ্যের তালে তালে সন্যাসীরা শারীরিক কসরত প্রদর্শন করেন। মন্ত্রে মুগ্ধ হয়ে সন্যাসীরা কেউ লাফিয়ে কলা গাছে উঠার চেষ্টা করেন। আবার কেউ বা সাপের মতো ফনা তুলে কলা গাছে আঘাত করেন। কেউ চক্রাকারের ভেতর থেকে মন্ত্রের টানে বেরিয়ে যান। আবারও তাকে ধরে নিয়ে আসা হয়। এভাবে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় মুগ্ধ হয়ে সন্যাসীরা কলাগাছটি ভেঙে ফেলেন। পরে সন্যাসীদের মন্ত্রের মাধ্যমে সুস্থ করেন তান্ত্রিকরা। এর মাধ্যমেই শেষ হয় পাতা খেলা।

খেলা দেখতে আসা গৃহবধূ আফরোজ বেগম বলেন, এ খেলা দেখে অন্য রকম এক অনুভূতি পাওয়া যায়। মন্ত্রে মুগ্ধ হয়ে পাতা বা সন্ন্যাসী যাদের বলে তাদের নাচ দেখা হয়। আবার কেউ কলা গাছে উঠার চেষ্টা করে পিছলে পড়ে যায়। আবার ওঝারা ঝাঁড় ফু করে।

খেলোয়াড় আব্দুল আজিজ বলেন, মাঠের মাঝে কলা গাছ পুঁতে রাখা হয়। গাছের গোড়ায় ঘটিতে পানি ও বাটিতে দুধ কলা রাখা হয়। খেলায় যারা অংশ নেবে (পাতা/সন্ন্যাসী) তাদের মন্ত্র পড়ে মুগ্ধ করা হয়। এরপর তারা ঢোল বা বাদ্যের তালে তালে শারীরিক কসরত ও নাচ করে। আবার ওঝারা মন্ত্র পড়ে পাতাদের আকৃষ্ট করে কলা গাছের এলাকা থেকে দূরে নিয়ে যায়। আবারও পাতা ছুটে চলে আসে গাছের কাছে। এক সময় পাতারা কলা গাছে উঠে ভেঙে ফেলে। এরপর খেলা শেষ হয়। এভাবেই এই সম্পন্ন হয়। আমরা বছরের পর বছর এসব খেলা করে আসছি এলাকাবাসীকে আনন্দ দেয়ার জন্য।

খেলার আয়োজক ও সামাজিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁর সভাপতি অ্যাডভোকেট ডিএম আব্দুল বারী বলেন, শত বছরের ঐতিহ্য পাতা খেলা। সুস্থ ধারার বিনোদন হিসেবে এলাকাবাসীকে আনন্দ দিতে এমন খেলার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া অন্য যেসব খেলা রয়েছে সেগুলো আগামীতে এভাবে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ