• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ২০শে পৌষ ১৪৩২ রাত ০৩:৩৭:২৭ (04-Jan-2026)
  • - ৩৩° সে:
বেনাপোল কাস্টমসে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ, বদলি ১৭ কমিশনার

বেনাপোল কাস্টমসে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ, বদলি ১৭ কমিশনার

যশোর প্রতিনিধি: দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একযোগে বদলি করা হয়েছে কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনের ১৭ জন কমিশনারকে।এনবিআরের কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনের দ্বিতীয় সচিব মোহাম্মদ আবুল মনসুর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অভিযোগ, বিতর্ক এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেনকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুবিভাগের মহাপরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাইজুর রহমান, যিনি এতদিন রাজশাহী কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টমসে চলমান দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে চার মাস আগে আবু হোসেনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বহিরাগতদের প্রবেশ সীমিত করা, শৃঙ্খলা ফেরানো এবং কিছু ক্ষেত্রে ঘুস বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেন। তবে ব্যবসায়ী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, সামগ্রিকভাবে কাস্টমসের অবস্থার উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। বরং দায়িত্ব পালনকালে একাধিক ঘটনায় তিনি নিজেই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন।গত ৭ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বেনাপোল কাস্টমস হাউসে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় রাজস্ব কর্মকর্তা শামিমা আক্তারের কাছ থেকে ঘুসের টাকা উদ্ধার এবং তার এক সহযোগীকে আটক করা হয়। অভিযোগ ওঠে, কমিশনার আবু হোসেনের প্রভাবের কারণে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় দুদক। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন বিক্ষোভের মুখে ওই কর্মকর্তাকে পুনরায় দুদকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।এছাড়া ভারত থেকে কাগজপত্রবিহীন পণ্যবোঝাই ট্রাক আটক হওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের রক্ষায় কমিশনারের ভূমিকা ছিল—এমন অভিযোগও উঠে আসে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেনাপোল কাস্টমস হাউস নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও সমালোচনা তীব্র হয়।অভিযোগ রয়েছে, অধীনস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও কমিশনার সেগুলো গুরুত্ব দেননি। বরং ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবেদনগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলের। এমনকি অনিয়মের তথ্য প্রকাশ বা গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের শোকজ করার ঘটনাও ঘটেছে, যা কাস্টমস হাউসে ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ।এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে অন্যান্য বদলির মধ্যে রয়েছেন—জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ঢাকার কমিশনার আবুল বাসার মো. শফিকুর রহমানকে চট্টগ্রাম আইসিডি কাস্টম হাউসে, যশোর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার শেখ আবু ফয়সল মো. মুরাদকে চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ঢাকার মহাপরিচালক মো. আবদুল হাকিমকে যশোর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।এছাড়া ঢাকা শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তর, বিভিন্ন ভ্যাট কমিশনারেট ও কাস্টমস হাউসেও একাধিক নতুন পদায়ন দেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রদবদলের মাধ্যমে বেনাপোলসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাস্টমস স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।