• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ৩০শে শ্রাবণ ১৪৩৩ সকাল ০৯:৫৬:২৫ (14-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:

কালী নদীর উৎস নিয়েই ভারত-নেপালের সীমান্ত বিরোধ

১৪ আগস্ট ২০২৬ সকাল ০৯:০৫:২৯

কালী নদীর উৎস নিয়েই ভারত-নেপালের সীমান্ত বিরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত ও নেপালের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের অন্যতম ভিত্তি ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি। তবে ঐতিহাসিক এই চুক্তির মূল কপি নেপালের সরকারি সংরক্ষণাগারে নেই। ২০১৯ সালে নেপালের পার্লামেন্টারি অনুসন্ধানে বিষয়টি উঠে আসে। পরবর্তীতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও চুক্তির যে অনুলিপি রয়েছে, সেটি মূল নথি কিনা তা নিশ্চিত করা যায়নি।

ভারত ও নেপালের সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা এলাকা। এসব অঞ্চল নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে আসছে নেপাল। ২০২৬ সালেও লিপুলেখ হয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার পথ নিয়ে ভারত ও নেপালের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সুগৌলি চুক্তি ১৮১৫ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত এবং ১৮১৬ সালের ৪ মার্চ অনুমোদিত হয়। চুক্তিতে কালী নদীকে নেপালের পশ্চিম সীমান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বিরোধের মূল জায়গা হলো—কালী নদীর প্রকৃত উৎস কোথায়।

নেপালের দাবি, কালী নদীর উৎস লিম্পিয়াধুরায়। সে হিসাবে লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখ কালী নদীর পূর্বে হওয়ায় এসব এলাকা নেপালের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ভারত কালী নদীর উৎস হিসেবে কালাপানি এলাকার একটি ভিন্ন জলধারাকে বিবেচনা করে এবং অঞ্চলটির ওপর দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে।

চুক্তির মূল নথি প্রসঙ্গে ২০১৯ সালে নেপালের পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। দেশটির সংসদীয় অনুসন্ধান কমিটি জাতীয় আর্কাইভ, গ্রন্থাগার, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাদুঘর এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অনুসন্ধান চালিয়েও সুগৌলি চুক্তির মূল কপি খুঁজে পায়নি। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গিয়াওয়ালি জানিয়েছিলেন, সরকারের কাছে চুক্তিটির কপি রয়েছে, তবে সেগুলো মূল কপি কিনা তা ফরেনসিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

তবে মূল কপি নেপালে না থাকলেও চুক্তিটির পাঠ ও ঐতিহাসিক নথি নিয়ে বিরোধ নেই। কাঠমান্ডু পোস্টের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৮১৬ থেকে ১৮৫৬ সালের বিভিন্ন ব্রিটিশ মানচিত্রে কালী নদীকে সীমান্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং কয়েকটি মানচিত্রে লিম্পিয়াধুরাকে নদীটির উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভারত অবশ্য নেপালের বর্তমান দাবিকে একতরফা ভূখণ্ডগত দাবি হিসেবে দেখে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, কালাপানি-লিপুলেখ-লিম্পিয়াধুরা নিয়ে নেপালের দাবি ঐতিহাসিক তথ্য ও প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে ভারত সীমান্তসংক্রান্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে থাকার কথাও জানিয়েছে।

এদিকে নেপালের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খিনালও সীমান্ত বিরোধের সমাধানে ঐতিহাসিক চুক্তি, মানচিত্র ও প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতে কূটনৈতিক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের কেন্দ্রে থাকা কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চল কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির ব্যাখ্যা ও কালী নদীর উৎস নির্ধারণের প্রশ্নটি এখনো ভারত-নেপাল সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে রয়েছে।

সূত্র: কাঠমন্ডু পোস্ট, ইন্ডিয়া টুডে
 

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ