ডেস্ক রিপোর্ট: পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ সার্ভার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে গত দুই দিন ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আগুনে কিছু সরকারি নথিপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দ্য ডেইলি স্টার অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার ভোর ৪টার দিকে রূপপুর প্রকল্পের ২ নম্বর গেটের কাছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পুরোনো কার্যালয়ে আগুন লাগে।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. আবুল হাশেম জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুনে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ হিসেবে কার্যালয়ের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটকে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে রূপপুর কর্তৃপক্ষ একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
স্টেশন অফিসার বলেন, তদন্ত কমিটি সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করছে।
ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাইট অফিসের ইনচার্জ মো. রুহুল কুদ্দুস জানান, কিছু সরকারি নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এতে বড় ধরনের সমস্যা হবে না। কারণ, নথিগুলোর ডিজিটাল ব্যাকআপ সংরক্ষিত রয়েছে।
তিনি বলেন, সার্ভার স্টেশনে ক্ষয়ক্ষতির কারণে গত দুই দিন ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে। সেবা স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।
এদিকে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) কেন্দ্রটি পরিদর্শনের সময় কয়েকবার অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী রূপপুরে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি বিশেষায়িত ফায়ার স্টেশন থাকা প্রয়োজন। সেখানে ২০০ জনের বেশি দক্ষ জনবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ৪৯ জন কর্মী নিয়ে ফায়ার স্টেশনটি পরিচালিত হচ্ছে।
তবে স্টেশন অফিসার আবুল হাশেম জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে নিজস্ব প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ করা হবে। বিশেষায়িত জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমানে দায়িত্বে থাকা কর্মীরাই কাজ করছেন।
তিনি আরও জানান, ফায়ার স্টেশনে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে পার্শ্ববর্তী ফায়ার স্টেশনগুলোর সহায়তাও নেওয়া যাবে। রূপপুর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ফায়ার স্টেশনের পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার পর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও সক্ষমতা তৈরি হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available