• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২২শে ফাল্গুন ১৪৩২ সকাল ১০:৫৫:০৭ (06-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:
সিগারেটের প্রচারণামূলক কৌশলী ব্যানারে ছেয়ে গেছে ইবি ক্যাম্পাস

সিগারেটের প্রচারণামূলক কৌশলী ব্যানারে ছেয়ে গেছে ইবি ক্যাম্পাস

ইবি প্রতিনিধি: সম্প্রতি ‘ভাইবসিটি’ নামের এক প্রতিষ্ঠানের প্রচারণামূলক ব্যানার ও সাজসজ্জায় ছেয়ে গেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস। এতে পরোক্ষভাবে সিগারেটের ব্র্যান্ডিংয়ের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রশাসন। ভাইবসিটি নামের এই কোম্পানি মূলত ক্যামেল, এলডি ও নেভি নামের সিগারেট পণ্য বিক্রি করে।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের জিয়া মোড়, বিভিন্ন হলগেট ও আশপাশের প্রায় ১৮-১৯টি দোকানে ভাইবসিটির লাইটযুক্ত ব্যানার, লাইটিং, দোকান রং ও দোকানের বসার জায়গা সাজানোর ব্যবস্থা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব রং ও ডিজাইন ক্যামেল সিগারেটের রঙের সঙ্গে মিল থাকায় বিষয়টি নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়।নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে কঠিন সমালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক ফেরদৌস ইমন লেখেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কতবড় গণ্ডমূর্খ হইতে পারলে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো একটা এলাকাজুড়ে সিগারেট ব্র্যান্ডের প্রমোট করতেসে। এখন প্রশ্ন হইতেসে তাতে দোষ কি? যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক লক্ষ সিগারেট বিক্রি হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে বসা উচিত প্রশাসনের, তাদের নর্মস বোঝা উচিত সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবথেকে জনপ্রিয় জায়গায় সিগারেটের বড় বড় বোর্ড লাগায় দিসে। তাইলে হলে সিগারেট খাওয়া যাবে না কেন? একদিকে হলে সিগারেট খাওয়া যাবে না বলে চিল্লানো প্রশাসন এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সিগারেটের ব্র্যান্ড সাব্র্যান্ড প্রমোট কইরা বেড়াইতেসে। এই দ্বি-চারিতার কোনো রিজন আছে কি? বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রান্ডিং করার সময় ঠিক কোন বিষয়ে আলোকপাত করে প্রশাসন?’আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী আহসান জুবায়ের লেখেন, ‘ভাইবসিটি সাজে সজ্জিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস! পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে এখন নিজেকে ক্যামেলের অ্যাম্বাসেডর মনে হচ্ছে।’সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্রান্ডিং ম্যানেজার আরিফ বলেন, ‘আমাদের এই কাজে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। দোকানদার অনুমতি দিয়েছে তাই আমরা এ কাজ করছি। বাকিটা দোকানদার বুঝবে।’জিয়া মোড়ের দোকানদার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কোম্পানি থেকে আমাদের স্পনসর করেছে দোকানের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য। কোম্পানির কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন নয় এটা। এই কোম্পানির বাংলাদেশের জন্য মূলত ব্রান্ড হলো সিগারেট। আমি এখানে খারাপ কিছু দেখছি না।’আরেক দোকানদার রাজু আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা তাদের কোম্পানির সিগারেট বিক্রি করি। সেই হিসেবে তারা এসে বললো, আমরা আপনাদের দোকানগুলো একটু রংচং করবো, কিছুদিন পর বললো লাইটিং বোর্ড করে দিবো। সেখানে দোকানের নাম ঠিকানা, ফোন নাম্বার থাকবে এবং এভাবেই আমাদের অনুমতি নিছে।’তার কাছে সিগারেটের ব্রান্ডিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদেরকে সিগারেটের ব্রান্ডিংয়ের বিষয়টা জানায় নি। আমরা জানি এরকম ব্রান্ডিং করা আইনত নিষিদ্ধ। আমাদের এখানে তাদের ক্যামেল, এলডি ও নেভি সিগারেট আছে। আমার জানামতে তারা বাংলাদেশে শুধু সিগারেটই বিক্রি করে।’এস্টট অফিসের প্রধান মোহা. আলাউদ্দিন জানান, ‘এই কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট অফিসের কোনো ধরনের অনুমতি নেয়নি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি।’বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘যারা এই কাজটা করেছে তারা প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমতি নেয়নি। যার কারণে তারা এই কাজটা ভুল করেছে। সিকিউরিটি সেলকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি– তাদের মাধ্যমেই যাতে এগুলো অপসারণ করা হয়।’