ইরানের পরমাণু অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংসের শর্ত দিলেন নেতানিয়াহু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তিতে তেহরানের পরমাণু অবকাঠামো কেবল বন্ধ নয়, বরং তা পুরোপুরি ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার আমেরিকান ইহুদি সংগঠনগুলোর বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।নেতানিয়াহু জানান, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া কেবল থামিয়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়; বরং সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা তৈরি করে এমন সব যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো উপড়ে ফেলতে হবে।সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় এক বৈঠকে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরান কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে ইসরায়েলি হামলার প্রতি সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র।চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তেহরান এমন একটি চুক্তির পক্ষে যা উভয় পক্ষের জন্য অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে। তবে এ ধরনের চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় প্রকাশ করে আসছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।সম্মেলনে গাজা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় হামাসের তৈরি টানেল বা সুড়ঙ্গগুলো ধ্বংসের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তার দাবি অনুযায়ী, গাজায় আনুমানিক ৫০০ কিলোমিটার সুড়ঙ্গের মধ্যে ইসরায়েল এ পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটার ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি সুড়ঙ্গগুলো নির্মূল করে ‘কাজটি সম্পন্ন করা’ ইসরায়েলের বর্তমান লক্ষ্য।ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সমান্তরালভাবে সামরিক প্রস্তুতিও দৃশ্যমান। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে আলোচনা ব্যর্থ হলে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে।এক চমকপ্রদ ঘোষণায় নেতানিয়াহু জানান, আগামী ১০ বছরের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া সামরিক সহায়তা বন্ধ করতে চান। বর্তমানে ১০ বছর মেয়াদী এক চুক্তির আওতায় ইসরায়েল প্রতি বছর ৩৮০ কোটি ডলার সহায়তা পায়, যা মূলত মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম কেনায় ব্যয় হয়। ২০২৮ সালে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েলের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী। তাই আমরা পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে এই আর্থিক সহায়তা কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিচ্ছি। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহায়তার সম্পর্কের বদলে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্বর সম্পর্কে উন্নীত হতে চাই।’সূত্র: জিও নিউজ