‘যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার নারীরা আমাদের আত্মীয় নন’, দাবি সোলেইমানির কন্যাদের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সাবেক শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানির পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার দুই ইরানি নারীর কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন শহীদ কাসেম সোলেইমানির দুই কন্যা। সম্প্রতি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট আটক ওই নারীদের সোলেইমানির ভাতিজি এবং নাতনি হিসেবে শনাক্ত করার পর এই প্রতিবাদ এলো।ইরানের বার্তা সংস্থা ফারস-এ শেয়ার করা এক পোস্টে সোলেইমানির কন্যা জয়নাব সোলেইমানি বলেন, 'মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের সাথে আমাদের পরিবারের কোনো যোগাযোগ বা সম্পর্ক নেই।'একইভাবে সোলেইমানির আরেক কন্যা নারগিস সোলেইমানি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে জানান, 'আজ পর্যন্ত শহীদ সোলেইমানির পরিবারের কোনো সদস্য বা কোনো আত্মীয় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেননি।'এর আগে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছিল, হামিদেহ সোলেইমানি আফসার (যাকে সোলেইমানির ভাতিজি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে) এবং তার কন্যা বর্তমানে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর হেফাজতে রয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (গ্রিন কার্ড) বাতিল করেন।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামিদেহ সোলেইমানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরান সরকারের জোরালো সমর্থক ছিলেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার ঘটনায় আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া তার স্বামীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলেইমানি। এরপর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যার প্রভাব এখনও বিদ্যমান। গ্রেফতার দুই নারীকে নিয়ে এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সেই উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।