অনলাইন ডেস্ক: অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য ডেঙ্গু বিপজ্জনক। গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। জ্বর হলেই হবু মায়েদের নানা শারীরিক অসুবিধা দেখা দিতে পারে। এতে গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি। গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু হলে মা ও অনাগত শিশুর উভয়ের জন্যই তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এ ক্ষেত্রে শুরু থেকেই চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
তারা বলছেন, অন্তঃসত্ত্বা নারী ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যার অন্তর্ভুক্ত। কারণ একজন নারী যখন অন্তঃসত্ত্বা হন, তখন তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এ সময় তিনি সব ধরনের রোগের ঝুঁকিতে থাকেন। তাই এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সতর্ক থাকতে হবে।
গাইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের উচিত জ্বর হলেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রক্তের সিবিসি করানো। এই জ্বরে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না। প্লাটিলেট কমে গেলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। এছাড়া জ্বরের শুরুতে একবার এবং চারদিন পর দুই দফায় ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে।
ডেঙ্গু জ্বরের কিছু উপসর্গ আছে, সেগুলো অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। যেমন- প্রসাব কমে যাওয়া, দুর্বল লাগা, পেট ব্যথা, অতিরিক্ত বমি, শরীরের চামড়ায় বা মুখে র্যাশ বা মেস্তা জাতীয় লাল ছোপ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। জ্বর কমে যাওয়ার সময়টা সবচেয়ে ভয়ের। এই সময়টা চিকিৎসকের পরামর্শে থাকতে হবে ।
এ বিষয়ে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক ডা. নাহিদা নাজনীন বলেন, গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় ভয় ব্লিডিং। তাই এ সময় ডেলিভারিতে-নরমাল বা সিজার-দুই ক্ষেত্রেই বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। বিশেষ করে রোগী যদি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়, তাহলে তার জন্য একাধিক ব্লাড ডোনার প্রস্তুত রাখতে হবে। ডেলিভারির (প্রসব) পরপরই নবজাতককে শিশু বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে মনিটর করতে হবে।
তিনি বলেন, ডেলিভারির পর প্রচুর রক্তপাত হতে পারে। তাই খুব বাধ্য না হলে অন্তঃসত্ত্বা ডেঙ্গু রোগীকে কোনভাবেই অপারেশন বা ব্যাথার ওষুধ দিয়ে ডেলিভারি করানো যাবে না।
করণীয় বিষয়ে তিনি বলেন, দৈনিক ৩-৪ লিটার তরল খাবার (ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন, ফলের রস, স্যুপ) পান করতে হবে। রোগীকে সম্পূর্ণ বেড রেস্টে থাকতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই প্যারাসিটামল ব্যতীত অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না। চিকিৎসকের নির্দেশ মতো নিয়মিত প্লাটিলেট কাউন্ট (সিবিসি) এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে হবে।
এজন্য এই সময়ে বাড়িতে যদি অন্তঃসত্ত্বা কেউ থাকে, তাহলে অবশ্যই বাড়ির আঙিনা এডিস মশামুক্ত রাখতে হবে। ঘুমানোর সময় মশারি টানাতে হবে। এছাড়া ফুলহাতা পোশাক ও পায়ে মোজা পরবে। জ্বর হোক বা না হোক, কোনো ধরনের অসুস্থতা দেখা দিলেই তার ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। কারণ লক্ষণ ছাড়া ডেঙ্গু হলে অন্তঃসত্ত্বা নারী ঝুঁকিতে পড়বেন।
সূত্র: বাসস
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available