ডেস্ক রিপোর্ট: ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ নয়, আমাদের বড় পরিচয় আমরা বাংলাদেশি বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
তিনি বলেন, “আপনাদের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার কারণে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পেরেছি। আপনারা আমাকে যেভাবে ভালোবাসা দিয়ে ঋণী করছেন, এখন সেই ঋণ আমাকে কমাতে হবে। দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।”
৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টায় শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “এই দায়মুক্ত কীভাবে হবো? আপনাদের পাশে থেকে, আপনাদের জন্য কাজ করে। আমি সব সময় আপনাদের নিয়ে থাকতে চাই।”
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা বিগত দিনে যেভাবে আমার পাশে ছিলেন, এখনও আছেন এবং আগামীতেও পাশে থাকবেন, এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি সব সময় একটি কথা বলি,''আপনাদের সুখের দিনে আমাকে না ডাকলেও চলবে, কিন্তু দুঃখের দিনে আমাকে ডাকবেন। আমি অবশ্যই আপনাদের ডাকে সাড়া দিয়ে পাশে থাকব।”
মানিকগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মানিকগঞ্জে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবার মধ্যে একটি সুন্দর সম্প্রতি রয়েছে। এই সম্প্রীতি আমাদের সবাইকে ধরে রাখতে হবে।”
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা জানেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রত্যেকটি মানুষকে একইভাবে দেখেন। এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান-এভাবে কোনো বিবেচনা করা হয় না। আমাদের সবার একটি পরিচয়,আমরা বাংলাদেশি। এটিই আমাদের বড়ো পরিচয়। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। আমাদের ঐক্য ধরে রাখতে হবে।”
জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান সম্পর্কে তিনি বলেন, “আজকের মিলনমেলাটি অনেক সুন্দর হয়েছে। সবার মধ্যে একটি আনন্দের আবহ লক্ষ্য করছি। আমার খুব ভালো লাগছে।”
অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী পূজা উদযাপন কমিটিকে এক লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। এছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি প্রণব কুমার সিকদার। বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার, শ্রী কালীপদ ঘোষ, অনিল কুমার ও রঞ্জিত কুমার দে। অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে খাদ্যমন্ত্রী বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে মানিকগঞ্জের বেউথা মসজিদ প্রাঙ্গণ এবং বেউথা-আন্ধারমানিক সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এ সময় তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে বেশি করে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available