আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিউকতাও শহরে সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় একটি মানবিক সহায়তা সংস্থা ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।
২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার হামলার পর আরও মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
আরাকান আর্মির দাবি, সোমবার কিউকতাও শহরে চালানো বিমান হামলায় ৫০ জন নিহত এবং অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন অংও হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াই হুন অংয়ের প্রকাশ করা ছবিতে নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর মরদেহ দেখা গেছে। তবে এসব ছবি ও হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইন থু খা অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে ঘনবসতিপূর্ণ বাজার, স্কুল, আবাসিক ভবন ও বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মিয়ানমার সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
কিউকতাওতে এ হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইন রাজ্যে চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে একটি হাসপাতালে বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলছে। রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে আরাকান আর্মি। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমারের চলমান সংঘাতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংঘাতের কারণে রাখাইন রাজ্যসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় মানবিক সংকটও আরও গভীর হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, ডয়চে ভেলে
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available