মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে চলমান গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার পর এবার প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।২ আগস্ট রোববার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা পূরণে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির বিষয়ে বাংলাদেশ বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত।এতে আরও বলা হয়, মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ নিয়ে অতীতে যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল, তা নতুন করে শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি পাইপলাইনের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যেতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাব দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে নিজেও মিয়ানমার সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেন।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় উত্থাপিত চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশ করিডোর গঠনের প্রস্তাবের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস পাইপলাইন নির্মিত হলে ওই করিডোর বাস্তবায়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, দুই দেশের যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে কারিগরি ও বাণিজ্যিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা যেতে পারে।