আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘মিথ্যা’ ও ‘সাজানো’ বলে দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী।
সৌদি জোটের দাবি, গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোরে মদিনার তাইবা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার অচল হয়ে পড়লেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল ছিল। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি বলেন, ঘটনাস্থলের তদন্ত এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে হুথিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সৌদি জোটের ভাষ্য, মদিনার এই হামলা মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্য করে হুথিদের ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ। এসব হামলার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের অনুভূতিতে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে জোট।
তবে হুথি-নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবার মাধ্যমে গোষ্ঠীটির এক সামরিক কর্মকর্তা অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, মদিনার হামলার সঙ্গে হুথিদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আগেও মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার যে অভিযোগ সৌদি আরব তুলেছিল, তার প্রমাণ দিতে ব্যর্থতার বিষয়টি আড়াল করতেই নতুন এই অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সৌদি জোট জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইতের আকাশে হুথিদের ছোড়া চারটি ড্রোন এবং খামিস মুশাইত ও জাজানের আকাশসীমায় দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশেও সংঘাত তীব্র হয়েছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দাবি, বুধবার রাতে জাবাল হাবাশি, মাকবানাহ ও আল-আকরুদ ফ্রন্টে হুথিদের সঙ্গে তীব্র লড়াই হয়েছে। সরকারি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, শুধু আল-আকরুদ ফ্রন্টেই অন্তত ৩০ হুথি যোদ্ধা নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। ছয়টি বিমান হামলায়ও হুথিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত শিবির ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ২৯ হাজার ৫১৯টি পরিবারের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জনকে নিবন্ধন করা হয়েছে। এর মধ্যে তাইজ প্রদেশে ৯৭ হাজারের বেশি এবং লাহিজে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সীমান্তবর্তী উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। ২০২২ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available