আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, কানসাস ও ওহাইওতেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটে ছয়টি রিপাবলিকান আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদেও অন্তত আটটি আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়েছে দলটি।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে আলোচিত জয় এসেছে টেক্সাসে। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী ও অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো। তিন দশকের বেশি সময় পর অঙ্গরাজ্যটিতে সিনেট নির্বাচনে জয় পেলেন কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী।
সাউথ ক্যারোলাইনাতেও রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও শিশু চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তাঁর বোন ডারলিন ওই আসনের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সাউথ ক্যারোলাইনায় ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয়ী হলেন।
পার্শ্ববর্তী নর্থ ক্যারোলাইনাতেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক গভর্নর রয় কুপার। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালের পর রাজ্যটির দুটি সিনেট আসনের একটিতে প্রথমবারের মতো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নির্বাচিত হলেন।
এদিকে কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও মেগাচার্চের যাজক অ্যাডাম হ্যামিলটন। প্রায় ৯৪ বছর পর রাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয় পেলেন।
ওহাইওতেও বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন। এর মধ্য দিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছেড়ে যাওয়া আসনটি আবারও ডেমোক্র্যাটদের দখলে এসেছে।
অন্যদিকে জর্জিয়ায় রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কলিন্সকে হারিয়ে নিজের আসন ধরে রেখেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ। ভার্জিনিয়ায়ও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণে পালাবদল
বর্তমান ১১৯তম কংগ্রেসের মেয়াদে ১০০ সদস্যের সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের ছিল ৪৫টি। তাঁদের সঙ্গে জোটে ছিলেন দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর।
এবারের নির্বাচনে সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি নিয়মিত নির্বাচন এবং দুটি বিশেষ নির্বাচন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনে যোগ দেওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে যাওয়া আসন পূরণে ওহাইও ও ফ্লোরিডায় বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনের ফলাফলে ডেমোক্র্যাটরা ছয়টি রিপাবলিকান আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে। ফলে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে হারলেও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার মতো অবস্থানে পৌঁছেছে দলটি। আল জাজিরার সরাসরি নির্বাচনী প্রতিবেদনের সর্বশেষ একটি হালনাগাদে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ৫০ উল্লেখ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে আরও একটি আসন প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছিল।
প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি
সিনেটের পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও বড় সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। রয়টার্সের তথ্যমতে, পেনসিলভানিয়া, নিউ জার্সি, কেনটাকি ও নর্থ ক্যারোলাইনাসহ বিভিন্ন রাজ্যে রিপাবলিকানদের আসন হাতছাড়া হয়েছে। অন্তত আটটি আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।
এর ফলে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ওয়াশিংটনের তিন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাকেন্দ্র—সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদ ও প্রেসিডেন্টের পদ—নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া রিপাবলিকানদের একক আধিপত্য ভেঙে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর। সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনে প্রতি দুই বছর পরপর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলে একবারে পুরো সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন করা তুলনামূলক কঠিন।
এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষণ করেছে রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে পরিচালিত জনমত জরিপে প্রায় অর্ধেক ভোটার মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। এ ছাড়া প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ অথবা অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য চান।
এটিভি/এসআইআর
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available