পারমাণবিক কর্মসূচি পাহাড়ের নিচে সরাচ্ছে ইরান, হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ ইস্ফাহান, নাতাঞ্জ এবং ফার্দো থেকে দেশের পিকাক্স পর্বতের পাদদেশে নির্মিত একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় স্থানান্তর শুরু করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন, যা নিয়ে কংগ্রেসে সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সেন্ট্রিফিউজসহ কয়েক হাজার যন্ত্রাংশ ইতোমধ্যে ওই ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর নাতাঞ্জের কাছে পাথুরে এলাকায় স্থাপনাটির নির্মাণ শুরু হয় এবং ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থাপনাটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে এবং এর ওপর রয়েছে প্রায় ৩০০ ফুট পুরু গ্রানাইট শিলার স্তর। ফলে এটি শক্তিশালী বোমা হামলার বিরুদ্ধেও তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত বলে মনে করা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, ২০২১ সালে ইরান পারমাণবিক কার্যক্রম পিকাক্স এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। তবে এরপর এ বিষয়ে সংস্থাটিকে আর কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি তেহরান।এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে পিকাক্স পর্বতের ওই স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।অন্যদিকে, সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে তিনি সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তা খাতে অতিরিক্ত ৯৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।শুনানিতে হেগসেথ বলেন, যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত অর্থায়ন "জরুরি ও প্রয়োজনীয়"। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটকে "এক প্রজন্মে একবারের বিনিয়োগ" হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ অর্থায়ন না হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী সক্ষমতার ঘাটতিতে পড়বে।তবে কমিটিতে শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও "অন্তহীন যুদ্ধের" পথে এগোচ্ছে। তার অভিযোগ, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে—এমন আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন প্রশাসন আরও বিপুল অঙ্কের অর্থায়ন চাইছে।পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে গত কয়েক দিনে আরও তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। ফলে জুলাইয়ের শুরু থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি সেনাসদস্য।প্রস্তাবিত ৯৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন প্যাকেজে সামরিক খাতে ৬০ বিলিয়ন ডলার, জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অন্যান্য খাতে ১২ বিলিয়ন ডলার, কৃষি সহায়তায় ১০ বিলিয়ন ডলার এবং ভোট আইন-সংক্রান্ত উদ্যোগে ১০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।সূত্র: রয়টার্স, এপি