আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ১৭ জুলাই শুক্রবার টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। খবর রয়টার্স ও আনাদোলুর।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, প্রণালির দক্ষিণে মাইনসংবলিত একটি এলাকায় দুটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ট্যাংকারে মার্কিন মেরিন বাহিনী অভিযান চালিয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল, গ্যাস কিংবা রাসায়নিক সার রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। বাহিনীটির দাবি, গত কয়েক ঘণ্টায় প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা চারটি 'অনুপ্রবেশকারী' জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে। সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।
এদিকে ১৮ জুলাই শনিবার ভোরে ইরানের হরমুজগান প্রদেশের উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। হামলায় দুটি সেতু ও একটি টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারও দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা এবং আইআরজিসির সাবেক শীর্ষ কমান্ডার মোহসেন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও কয়েক দিন হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরান পূর্ণমাত্রার আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available