খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, ১-২ দিনের মধ্যে আসতে পারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এ বিষয়ে আগামী ১-২ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কর্মী নিয়োগের সময়সীমা, কার্যপ্রণালি এবং বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় পক্ষই এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে।২৮ জুলাই মঙ্গলবার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর. রামানানের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে রামানান জানান, দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।তিনি বলেন, “সম্ভবত আগামীকাল অথবা পরশুর মধ্যেই আমরা একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাব। এরপর মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ যৌথভাবে অথবা পৃথকভাবে সেই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে।”মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বছরের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও আপাতত নতুন চুক্তি নয়, বরং শ্রমবাজারের তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণই দুই দেশের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় জনশক্তি পাঠাতে প্রস্তুত, আর মালয়েশিয়ার খাদ্য ও পানীয় (এফঅ্যান্ডবি) শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে তীব্র শ্রমিক সংকট রয়েছে। তাই কারিগরি বিষয়গুলো পরে হলেও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শ্রমিক সংকট দ্রুত নিরসন করা।এর আগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের এক মাসের আলটিমেটামের পর দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী আর. রামানান জানিয়েছিলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০ দিনের মধ্যেই বিদেশিকর্মী নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা দূর করা হবে। একদিকে স্থানীয় নাগরিকদের চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি বহাল রাখা, অন্যদিকে বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মী নিয়োগের সংকট দ্রুত কাটাতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে দেশটির সরকার।মঙ্গলবার নেগেরি সেম্বিলানের এসজেকেটি লাদাং সেনাওয়াংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রামানান বলেন, “মালয়েশিয়ার নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। তাই প্রতিটি চাকরির সুযোগ আগে স্থানীয়দের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। উপযুক্ত স্থানীয় কর্মী না পাওয়া গেলে কেবল প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হবে।”বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর কোটা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। দ্বাদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (১২এমপি) অনুযায়ী, দেশের মোট শ্রমশক্তির সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ বিদেশিকর্মী হতে পারবেন। এছাড়া ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনায় (১৩এমপি) ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আসতে যাওয়া এই সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জটই খুলবে না, বরং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর পথও উন্মুক্ত করবে।সূত্র: কালের কণ্ঠ