আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মালয়েশিয়ার ১০১ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দীর্ঘ ৭ দশকের জীবনসঙ্গীর প্রয়াণের একদিন পরই ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার এ তথ্য জানান তার এক সহযোগী।
কুয়ালালামপুর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
দুই দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মাহাথিরকে মঙ্গলবার রাতে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয় বলে জানান তার সহযোগী সুফি ইউসফ। তবে আনুষ্ঠানিক রোগ নির্ণয় না হওয়া পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে ভর্তির কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সুফি বলেন, সোমবার স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর পর মাহাথির পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে পারেননি। এতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
সুফি ওয়াটসঅ্যাপে এএফপিকে বলেন, ‘তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানসিকভাবে ওঠানামা, গরম আবহাওয়া এবং বিশ্রামের অভাবে তিনি খুবই ক্লান্ত। ১০১ বছর বয়সী একজন মানুষের জন্য এসবের সমন্বয় মোটেও ভালো নয়।’
মাহাথিরের স্ত্রী সিতি হাসমাহ ছিলেন চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্যের পক্ষে সোচ্চার একজন ব্যক্তি। ১০০ বছর বয়সে তিনি মারা যান। এই দম্পতির ৭ সন্তান রয়েছে।
স্ত্রীর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত মাহাথিরকে কাঁদতে কাঁদতে দেশটির সাবেক রাজার কাছে বলতে দেখা যায়, ‘আমি আশা করিনি তিনি আজ মারা যাবেন।’ তার জানাজার সময় ধারণ করা ওই ভিডিও মাহাথিরের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাহাথির বেশ কয়েকবার হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগেছেন। তার বাইপাস সার্জারিও হয়েছে।
১০১ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে পড়ে গিয়ে নিতম্বে চোট পাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মাহাথির বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সে দায়িত্ব পালনকারী সরকারপ্রধান হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৯২ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সূত্র: বাসস
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available