• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ২৫শে ভাদ্র ১৪৩৩ দুপুর ১২:১২:১১ (09-Sep-2026)
  • - ৩৩° সে:
‘আমি কাতারে বোমা ফেলেছি’, দম্ভের সঙ্গে বললেন নেতানিয়াহু

‘আমি কাতারে বোমা ফেলেছি’, দম্ভের সঙ্গে বললেন নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কাতারে ইসরাইলের হামলার কথা দম্ভের সঙ্গে স্বীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি।৫ সেপ্টেম্বর শনিবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া নেতানিয়াহুর একটি সাক্ষাৎকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। সেখানে তিনি দাবি করেন, গাজায় ইসরাইলের চলমান যুদ্ধে কাতার তাদের নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা চালিয়েছি। আমি তাদের ওপর বোমাও ফেলেছি। যুদ্ধের সময় তাদের আক্রমণ করেছি। তারাও আমাকে আক্রমণ করেছে।’দোহায় ইসরাইলের ওই হামলার এক বছর পূর্তির কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহুর এ মন্তব্য সামনে এলো। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় হামলা চালায় ইসরাইল। এতে হামাসের পাঁচ সদস্য ও কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামলার সময় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল।মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে কাতার। ২০১২ সাল থেকে দেশটিতে হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয় রয়েছে। কাতারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই দোহায় ওই কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল।দোহায় ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানায় কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি হামলাটিকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ‘সব আন্তর্জাতিক আইন ও রীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন’।ইরান ও পাকিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশ ওই হামলার নিন্দা জানায়। কাতারের প্রতি সংহতি জানাতে পরে দেশটি সফর করেন জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা।জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও হামলার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এটি কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’।ওই মাসের শেষ দিকে নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জসিম আল থানিকে ফোন করেন। এ সময় তারা হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।এদিকে আগামী মাসে ইসরাইলের আইনসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহু গাজায় কাতারের অর্থ পাঠানোর বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।আই২৪নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলের সহযোগিতায় কাতারের কোটি কোটি ডলার গাজায় পাঠানো হয়েছিল। তার দাবি, এসব অর্থ মানবিক সহায়তার জন্য দেওয়া হয়েছিল। মোসাদ ও শিন বেতের সুপারিশেই অর্থ পাঠানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি।নেতানিয়াহুর ভাষ্য, ‘এসব অর্থ গাজায় ঢোকা মোট অর্থের মাত্র ২ শতাংশ।’তবে তার সমালোচকেরা অভিযোগ করেন, কাতারের এই অর্থ হামাসকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছিল। ওই হামলার পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল।কাতার অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, হামাসকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। কাতার আরও জানিয়েছে, তাদের দেওয়া সহায়তা কঠোর নজরদারির মধ্যেই গাজায় পৌঁছেছে।গত বছরের দোহা ফোরামে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বলেন, ইসরাইল কাতারের অর্থায়নে হামাসকে সহায়তার যে অভিযোগ করছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।তিনি বলেন, কাতারের সব সহায়তা গাজা ও সেখানকার মানুষের কাছে গেছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল স্বচ্ছ এবং যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে পুরোপুরি অবগত ছিল।