জামালপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা-ছেলেসহ ৩ জনের মৃত্যু, আহত ১
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মেলান্দহ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুই ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একদিনে মা-ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এক বৃদ্ধা।১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় নিজ ঘরের বৈদ্যুতিক লাইন মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাজু (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মা লাকী আক্তার (৪০)ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এ সময় তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন রাজুর দাদি বুলি বেগম।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পুরাতন রেললাইন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাজু ওই এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে এবং লাকী আক্তার তার মা।স্থানীয়রা জানান, বসতঘরের বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি দেখা দিলে রাজু তা মেরামতের চেষ্টা করে। এ সময় অসাবধানতাবশত সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ছেলেকে বাঁচাতে মা লাকী আক্তার এগিয়ে গেলে তিনিও বিদ্যুতায়িত হন। পরে পুত্রবধূ ও নাতিকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে বুলি বেগমও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাজু ও লাকী আক্তারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত বুলি বেগমকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।অন্যদিকে, একই দিন সন্ধ্যায় মেলান্দহ উপজেলার কোনা মালঞ্চ আমেনা দাখিল মাদ্রাসায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোহাম্মদ জোনায়েদ হাসান তায়িব নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্লাসের মধ্যবর্তী বিরতির সময় তায়িব তার বই শ্রেণিকক্ষে রেখে বাইরে খেলাধুলা করতে যায়। পরে মাদ্রাসা ছুটি হলে বই নিতে গিয়ে ভবনের ছাদসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে সে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।অন্যদিকে, মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।