পীরগঞ্জে ২ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করেন ৫ জন শিক্ষক!
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা পাঁচজন। অথচ পুরো স্কুলজুড়ে শিক্ষার্থীর দেখা মিলল মাত্র দুজনের। পাঁচজন শিক্ষক মিলে সেই দুই শিক্ষার্থীকেই পাঠদান করছেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের পি.এ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে।২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, পরিপাটি ক্লাসরুম আর সারি সারি চেয়ার-টেবিল। স্কুলটিতে কাগজে কলমে ৫০ জন ছাত্র ছাত্রী থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থীর কোলাহল নেই। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি কক্ষই প্রায় শূন্য। প্রাক প্রাথমিক শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন মহিলা শিক্ষক। অপর একটি কক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ক্লাস নিচ্ছেন একজন শিক্ষক। বাকি শিক্ষকরা অফিস কক্ষে বসে অলস সময় পার করছেন।অথচ, বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা মতে, ঐ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৪ জন। এর মধ্যে প্রাক প্রাথমিকে ১৪ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৮ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১০ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৭ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৬ জন। শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন।জানা গেছে, প্রথম শিফট অর্থাৎ সকালে দু’ একজন ছাত্র-ছাত্রী আসলেও দ্বিতীয় শিফটে বেশির ভাগ সময়ে কেউ আসে না। শিক্ষকরা দুপুরের পর স্কুল বন্ধ করে চলে যান। দীর্ঘদিন ধরেই এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। পাশের এলাকায় কিন্ডারগার্টেন বা বেসরকারি স্কুল গড়ে ওঠায় অভিভাবকরা সেদিকে ঝুঁকছেন। শিক্ষকদের অবহেলার কারণে বিদ্যালয়টিতে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।এ নিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলতে গেলে প্রধান শিক্ষক গণমাধ্যমকর্মীদের পিছু নেন, ফলে প্রধান শিক্ষকের সামনে কেউ কোন কিছু বলতে চাননি। প্রধান শিক্ষক চলে যাওয়ার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, স্কুলের সাথেই প্রধান শিক্ষকের বাড়ি। তিনি খুব প্রভাবশালী তাই কেউ স্কুলটির বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছে না।এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র রায় বলেন, আশপাশের এলাকায় কিন্ডারগার্টেন বা বেসরকারি স্কুল গড়ে ওঠায় আগের তুলনায় শিক্ষার্থী কমে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে। বাড়ি বাড়ি গিয়েও অভিভাবকদের সাথে কথা বলা হচ্ছে। ক্লাসে উপস্থিতি বাড়াতে কাজ চলমান আছে।এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাহিম উদ্দিন জানান, এরই মধ্যে গত ২৬ এপ্রিল ওই স্কুলের শিক্ষকদের সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহিনুর ইসলাম শোকজ করেছেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বিষয়ে তাদের আবারো শোকজ করা হবে।