মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবন পড়ে আছে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায়। ঠিকাদারের গাফিলতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যুৎহীন একচালা টিনশেড ঘরে চলছে ক্লাস।

নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে বহু আগেই। তারপরও তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবন পড়ে আছে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায়, দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।


খাগড়াছড়ি জেলাধীন মাটিরাঙ্গা পৌরসভার পশ্চিম নতুন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বান্দরসিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলুটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে তিনতলা ভবন। ফোর্থ প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (পিইডিপি-৪) আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।
প্রকল্পের প্রথম মেয়াদ শেষে সময় বাড়ানো হলেও ২০২৫ সালের জুনে শেষ হয় বর্ধিত মেয়াদও। তবু শেষ হয়নি কাজ। পশ্চিম নতুন পাড়া ও আলুটিলা স্কুলে কাজ কিছুটা এগোলেও বান্দরসিং স্কুলের অর্ধেকেরও বেশি কাজ ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার।
স্থানীয় ও স্কুল শিক্ষকদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে ঠিকাদার ইচ্ছামতো কাজ করছেন। একাধিকবার লিখিত অভিযোগ ও তাগাদা দেওয়ার পরও মিলছে না কোনো প্রতিকার।
পশ্চিম নতুন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম বলেন, ‘২০২৩ সাল থেকেই দেখছি স্কুল ভবনের কাজ ধীর গতিতে চলছে। ইতিমধ্যে নির্ধারিত সময় অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ ছোট একটি টিনশেড ঘড়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। স্কুল ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় আমাদের অনেক শিক্ষার্থী অন্যান্য স্কুল ও মাদ্রাসায় চলে গেছে। এখন রেজিস্ট্রারে মোট শিক্ষার্থী সত্তর জন থাকলেও ক্লাসে আসে বিশ থেকে পঁচিশ জন। শিক্ষকরাও এখানে নিরুপায়।’
ঠিকাদার শামসু বলেন, ‘বিভিন্ন কারণেই বিলম্ব হয়েছে। তবে পশ্চিম নতুন পাড়া ও আলুটিলা বিদ্যালয়ের কাজ প্রায় শেষ। খুব শিগগিরই হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত হবো। বান্দরসিং স্কুলের কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে।’
এ বিষয়ে এলজিইডির মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী আমজাদ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান জানান, ‘ভবন নির্মাণে ধীরগতির কারণে ইতিমধ্যে তিনটি স্কুল ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বাকী ভবনগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য বলা হয়েছে।’
এলজিইডির খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমা বলেন, ‘এলজিইডি অফিসের কোন কর্মকর্তার গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্কুল ভবন নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে।’
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available