ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করল ৩ মুসলিম দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক চাপ কার্যকর করতে তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট শনিবার যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি এই তিন দেশের সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট বলেন, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব প্রচেষ্টা ফল দিতে শুরু করেছে।বেসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরস্ক ও ওমান তাদের দেশে ইরানের মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট স্থগিত করেছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে ব্যাংকিং লেনদেন সীমিত করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইরানের সবগুলো বিমান সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং বিদেশি বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী ও অন্যান্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে দেয়। ইরানি বিমানকে সেবা দিলে এসব প্রতিষ্ঠানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে বলে ওয়াশিংটন জানিয়েছে।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম আরও কঠোরভাবে সীমিত করার প্রক্রিয়া কার্যকর হয়। এর ফলে তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানসহ কয়েকটি দেশে ইরানি বিমান চলাচল বন্ধ বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।বেসেন্ট বলেন, ‘তেহরান যাতে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য আমাদের আরও কাজ বাকি রয়েছে এবং আমরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।’যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক চাপের কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’। এর আওতায় ইরানের তেল, জাহাজ চলাচল, বিমান পরিবহন, প্রযুক্তি, স্বর্ণ ও আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংযোগ লক্ষ্য করা হচ্ছে।তবে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের মার্কিন উদ্যোগের বিরোধিতা করে তেহরান জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়। এদিকে ইরানের বিমান চলাচলে নতুন বিধিনিষেধের কারণে দেশটির আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আরও চাপ তৈরি হয়েছে বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।