স্পোর্টস ডেস্ক: লিওনেল মেসির বিদায়ের দিনে বিস্ফোরক বিবৃতি দিয়ে বসলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার নেপথ্য কাহিনি প্রকাশ্যে এনে সরাসরি কোচ জর্জ জেসাসের বিরুদ্ধে ‘কথা না রাখার’ অভিযোগ তুললেন পর্তুগিজ মহাতারকা। প্রায় দুই হাজার শব্দের দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তার ক্ষোভের কারণও যথেষ্ট গুরুতর।
লিওনেল মেসির বিদায়ের দিনে পর্তুগাল ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে রোনালদোর সেই বিবৃতির সারমর্ম হচ্ছে— পর্তুগালের হয়ে এখনও খেলা চালিয়ে যেতে চান তিনি।
রোনালদোর সেই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি নিচে তুলে ধরা হলো—
জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ক্যাম্পে আসলে কী ঘটেছিল তা সরাসরি ব্যাখ্যা করতে চাই। বিশ্বকাপের পর, এফপিএফ (পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন) সভাপতি আমাকে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানান এবং বর্তমান কোচের ব্যাপারে আমার মতামত জানতে চান। আমি বলেছিলাম, তিনি সঠিক পছন্দ হবেন।
গত আগস্টে কোচ আমাকে জানান, আমি তার প্রকল্পের একটি মৌলিক অংশ: আমি প্রথম এবং শেষ ম্যাচ দুটি খেলব। তিনি আমাকে বাইরের (অ্যাওয়ে) ম্যাচগুলো এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করি— একজন অধিনায়ক কখনো ঘরে বসে থাকতে পারে না। কুতিনহো এর সাক্ষী ছিলেন।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দিন কোচ আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি ৩০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত কি না। এটি পূর্বপরিকল্পনায় ছিল না, তবুও আমি রাজি হই। আমি প্রথমার্ধের বিরতির পর থেকে ওয়ার্ম-আপ করি, কিন্তু আমাকে আর মাঠে নামানো হয়নি। তিনি তার কথা রাখেননি। ম্যাচ শেষে সমর্থকদের অভিবাদন না জানানো আমার ভুল ছিল, এর জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি।
৪৮ ঘণ্টা পর, কুতিনহোর উপস্থিতিতে আমরা একমত হই যে, কোচ সংবাদ সম্মেলনে সত্য বিষয়টি বলবেন: পুরো পরিকল্পনাটি তার ছিল, আমি নিজে খেলার জন্য অতিরিক্ত সময় চাইনি এবং আমাকে মাঠে না নামিয়ে ওয়ার্ম-আপ করানোটা তার ভুল ছিল। তিনি আমি সেই পয়েন্টগুলো নিয়ে একটি ছোট নথিতে সম্মতি দিয়েছিলাম।
সেদিন সকালেও আমি সভাপতি ও কোচকে বলেছিলাম— আপনারা আমাকে না চাইলে শুধু সরাসরি বলে দিন। তারা দুজনই আমাকে দলে চান বলে জানান। অথচ সংবাদ সম্মেলনটি আমাদের সম্মতির ধারেকাছেও ছিল না। সেখানে আমার বিরুদ্ধে এমন কড়া কথা বলা হলো, যা আমার প্রাপ্য ছিল না। এটি ছিল দ্বিতীয়বার, যখন তিনি তার কথা ভাঙলেন। গত প্রায় ২৫ বছরে আমি কখনো কোচের টেকনিক্যাল সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করিনি। কিন্তু যখন আমার সাথে দেওয়া কথা রাখা হয় না, তখন সেখানে আমার থাকা সাজে না।
দল ছেড়ে আসার জন্য আমি আমার সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। সব দায়ভার একান্তই আমার। এফপিএফ-এর উচিত আমাকে কোনো ছাড় না দিয়ে শাস্তি দেওয়া; দলনেতা হিসেবে এটি আমার অপরাধের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
এখন বিদায়ী ম্যাচের বিষয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু যখন অনাহারে ছিলাম, তখনই শিখেছি— কেউ কাউকে বিনামূল্যে কিছু দেয় না। আমার কাছে জাতীয় দল মানে প্রতিযোগিতা। আমার বাবা যখন মারা যান, তখনও আমি পরের ম্যাচটি শেষ হওয়া পর্যন্ত দলের সাথেই ছিলাম। দেশের জন্য আমি তা করেছি। আমার নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আমি যদি ফিট থাকি, তবে পর্তুগালের হয়ে জয়ী হতে এবং লড়াই করতে বরাবরের মতোই প্রস্তুত থাকব। এটিই চরম সত্য।
তথ্যসূত্র: টি-স্পোর্টস
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available