• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ সকাল ০৬:০৮:৫৪ (29-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

সন্দেহভাজন সেই ৯ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আর অভিযোগ নেই

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৩৭:৩০

সন্দেহভাজন সেই ৯ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আর অভিযোগ নেই
ছবি: সংগৃহীত

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের নিলাম তালিকা থেকে বাদ পড়া ৯ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আনেনি বিসিবির স্বাধীন দুর্নীতি দমন ইউনিট (আকসু)।

তাদের বাদ দেওয়ার পেছনে ছিল একটি ৯০০ পৃষ্ঠার ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে পাওয়া নেতিবাচক তথ্য। তবে ওই ৯ ক্রিকেটারের কারও ক্রিকেট খেলার ওপর বর্তমানে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানিয়েছেন বিসিবির ইন্টিগ্রেটি বিভাগের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল।

বিপিএলের গত আসরের আগে স্বাধীন তদন্ত কমিটির তৈরি করা ওই প্রতিবেদনে সন্দেহের তালিকায় ছিলেন ক্রিকেটার, ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তা, একজন কোচ ও একজন মিডিয়া ম্যানেজারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ।

আরও পড়ুন

এক দিনে বাংলাদেশের দুই জয়

দ্বাদশ বিপিএলের চূড়ান্ত নিলাম তালিকা থেকে বাদ পড়া ৯ জনের মধ্যে প্রাথমিক তালিকায় ছিলেন ৮ ক্রিকেটার। তারা হলেন- দুর্দান্ত রাজশাহীর এনামুল হক, শফিউল ইসলাম, সানজামুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান, ঢাকা ক্যাপিটালসের মোসাদ্দেক হোসেন ও আলাউদ্দিন বাবু এবং সিলেট স্ট্রাইকার্সের আরিফুল হক ও নিহাদুজ্জামান। পরে প্রাথমিক তালিকায় আরিফুল হককে যুক্ত করা হয়।

এই ৯ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি কিংবা তাদের বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চাওয়া হলে তদন্তের বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি মার্শাল। তার যুক্তি, তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে এলে ভবিষ্যতে কারও ন্যায্য আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সংবাদ সম্মেলনে মার্শাল বলেন, ‘আমি কোনো তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ করব না। এটা কারও জন্যই ন্যায্য হবে না। কারণ কোনো ব্যক্তি যদি পরে ট্রাইব্যুনালে যান, তাহলে তাকে নিজের পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। তদন্তের প্রমাণ বা বিস্তারিত আগেই প্রকাশ্যে চলে এলে তার ন্যায্য শুনানি পাওয়ার সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

আরও পড়ুন

সাদমানের সেঞ্চুরির অপেক্ষা, বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩/৩

তদন্তে সাধারণত তিন ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও জানান আকসুপ্রধান। তার ভাষ্য, অভিযোগ আনার মতো শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে চার্জ দেওয়া হয়। প্রমাণ সে পর্যায়ে না পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। আর কোনো প্রমাণই না মিললে তদন্ত সেখানেই শেষ করে দেওয়া হয়।

তবে গত বিপিএলে খেলতে না পারলেও বর্তমানে ওই ৯ ক্রিকেটারের ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যেতে কোনো বাধা নেই। বিষয়টি স্পষ্ট করে মার্শাল বলেন, ‘আমি বিপিএলের গত আসরে আমন্ত্রণ না জানানোর যে পরামর্শ দিয়েছিলাম, সেই সংখ্যা ৯ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; সংখ্যাটি আরও বেশি ছিল। সেটি ছিল নির্দিষ্টভাবে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের জন্য। বর্তমানে তাদের কারও ক্রিকেট খেলার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তারা কেউই অভিযুক্ত হয়নি। তাই তারা খেলতে পারবে।’

নিলামের ঠিক আগে কেন ওই ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল, সেটিরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি মার্শাল। তিনি জানান, ড্রাফটের আগে পাওয়া কিছু নতুন তথ্যের ভিত্তিতেই বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে সতর্ক করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

পেনাল্টি শুটআউটে আর্সেনালকে বিদায় করে রূপকথা লিখল ফ্লিটউড!

মার্শাল বলেন, ‘ড্রাফটের ঠিক আগে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, যেখানে দেশি-বিদেশি বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য ছিল। আমি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে সতর্ক করেছিলাম যে প্রতিবেদনে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন, যারা বিপিএলের দ্বাদশ আসরের জন্য হুমকি হতে পারেন। এরপর তারা কিছু মানুষকে ওই আসরে আমন্ত্রণ না জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়গুলো পরে তদন্ত করা হয়েছে।’

এ সময় ইন্টিগ্রেটি ইউনিটের জেনারেল কাউন্সিলর মাহিন এম রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করেন। তার মতে, ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি কোনো ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-করাপশন কোড ভঙ্গের তদন্ত হিসেবে তৈরি করা হয়নি। বরং বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করাই ছিল ওই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, ‘ওই ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি কোনো অ্যান্টি-করাপশন কোড ভঙ্গের তদন্ত ছিল না। এটি ছিল মূলত একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং বডির প্রতিবেদন। সেখানে বিসিবির পুরো ইন্টেগ্রিটি ও অ্যান্টি-করাপশন ব্যবস্থায় কী ধরনের সমস্যা রয়েছে এবং কোথায় উন্নতি প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে তখনকার বিসিবি অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট যথেষ্ট কার্যকরভাবে কাজ করছিল না; এমন পর্যবেক্ষণও ছিল।’

আরও পড়ুন

গম্ভীরের ‘চকলেট’ পেয়ে কিউই বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালালেন সূর্যবংশী!

মাহিন জানান, ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণও উঠে এসেছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনটি অ্যালেক্স মার্শালের কাছে হস্তান্তর করা হলে সেসব বিষয় নিয়ে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিট কাজ শুরু করে।

মার্শালের ভাষ্য, ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে শুধু নয়জন নয়, আরও অনেকের নাম ছিল। বিপিএলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকা ব্যক্তিদের মধ্য থেকে তিনি প্রাসঙ্গিকদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে থাকা বিপিএলে অংশ নেওয়ার সম্ভাব্য সব ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছিলাম।’

অর্থাৎ, গত বিপিএলের নিলাম থেকে বাদ পড়াটা ওই ৯ ক্রিকেটারের জন্য স্থায়ী কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটের কোনো পর্যায়েই খেলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শুধু দ্বাদশ বিপিএলের আসরটিতে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন

দুই উইকেট হারিয়ে ৬৮ রান বাংলাদেশের

এরই মধ্যে মোসাদ্দেক হোসেন জাতীয় দলের হয়েও মাঠে নেমেছেন। এনামুল হকও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। প্রায় এক বছর পর মার্শালের বক্তব্যে আপাতত নিশ্চিত হলো, অভিযোগের আলোচনায় থাকা ওই ক্রিকেটারদের ক্রিকেট খেলার পথে এখন কোনো বাধা নেই।

সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ





এক দিনে বাংলাদেশের দুই জয়
এক দিনে বাংলাদেশের দুই জয়
২৮ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৯:২২:৪৩