আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলের রাজনীতিতে নজিরবিহীন উত্থান ঘটেছে আরব প্রতিনিধিত্বের। নির্বাচনে ইসলামপন্থী দল রা’আম এককভাবে ৬টি আসন নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, যৌথভাবে লড়া আরব জোট জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম মিলিয়ে মোট ১৯টি আসন নিশ্চিত করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ফলাফল বাস্তবায়িত হলে নতুন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে আরব দলগুলো।
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। নির্বাচনের আগে ধারণা করা হয়েছিল, সর্বোচ্চ আটজন মুসলিম প্রতিনিধি জয়ী হতে পারেন। তবে সেই পূর্বাভাস ছাড়িয়ে আরব প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা ১৯-এ পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন না থাকলেও নতুন জোট সরকার গঠনে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে বিকল্প সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর চরম ডানপন্থী লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনে পৌঁছাতে দুই জোটেরই বাড়তি সমর্থন প্রয়োজন।
গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, আরব দলগুলোর ১৯টি আসনের সমর্থন ইয়াশার জোট পেলে সরকার গঠনের পথ সুগম হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
নির্বাচনের আগেই জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্রদের ক্ষমতাচ্যুত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “নেতানিয়াহু, বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের চরমপন্থী সরকার ক্ষমতাচ্যুত করে বাড়িতে পাঠানোর পথ তৈরি করতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইয়াশার ও আরব দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কোন দল কার সঙ্গে জোট করবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার ওপর।
এদিকে, নেতানিয়াহুর বিদায় মানেই ফিলিস্তিনের মুক্তি বা সুদিন—এমন ধারণার বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। ইসরাইলের প্রধান প্রধান ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও নীতিতে ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য রয়েছে।
তবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন চরম ডানপন্থী জোটের তুলনায় ইয়াশার ও আরব দলগুলোর অবস্থান কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনে চলমান ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং ইসরাইলে বসবাসকারী আরব ও মুসলিম নাগরিকদের ওপর নজরদারি ও নিপীড়ন কমানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিবর্তন কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নতুন সরকার গঠন, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নীতিগত অবস্থানের ওপর।
এটিভি/ এইচকে
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available