অনলাইন ডেস্ক: ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাকের টেস্টে অন্য এক বাংলাদেশকে দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। অজি পেসার মিচেল স্টার্কের তোপ ও নাথান লায়নের ঘূর্ণিতে মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়ে গেছে দুই টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচটি। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯৫ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। এই জয়ে ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করলো আয়োজক অস্ট্রেলিয়া।
স্টার্কের গতি ও বাউন্সের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপ। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫১ রানে ১০ উইকেট শিকার করেছেন এই বাঁহাতি পেসার। এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলা দ্বিতীয় সংক্ষিপ্ততম টেস্ট। এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল মাত্র ৬৪ রানে। এতে টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচের দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হলো বাংলাদেশ।
২৩ আগস্ট রোববার সকালে দুই উইকেটে ১৯১ রান নিয়ে দিন শুরু করা অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত ২১০ রানে অলআউট হয়। এতে তারা ১৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায়। এক প্রান্তে অপরাজিত ৩২ রান করে লিড বড় করেন নাথান লায়ন, অন্য প্রান্তে ক্যামেরন গ্রিন পূর্ণ করেন দায়িত্বশীল ফিফটি। বাংলাদেশের পক্ষে ক্যারিয়ার সেরা ৪৭ রানে সাত উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম।
১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই স্টার্কের ধাক্কায় লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বাংলাদেশ। টানা দুই বলে আউট হন সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। প্যাট কামিন্সের বাউন্সারে শর্ট থার্ডে ক্যাচ দিয়ে দ্রুত বিদায় নেন তানজিদ হাসানও।
অন্য প্রান্তে একা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। স্টার্ককে পাঁচটি বাউন্ডারি মেরে পাল্টা আক্রমণের বার্তা দিলেও শেষ পর্যন্ত ৩১ রানে লায়নের শিকার হন তিনি। ব্যর্থতার ধারা বজায় রেখে শূন্য রানে আউট হন লিটন দাস—সিরিজের তিন ইনিংসে একটি রানও করতে পারেননি এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদকে দ্রুত বিদায় করে ম্যাচ নিজের ১০ উইকেট পূর্ণ করেন স্টার্ক।
চা-বিরতির পরপরই তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামকে ফিরিয়ে ইনিংস গুটিয়ে দেন লায়ন ও স্টার্ক। ১৫৯ রানের যৌথ সংগ্রহ নিয়ে ম্যাচজুড়েই ব্যাকফুটে ছিলো সফরকারীরা।
সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত বোলিং করা মিচেল স্টার্ক জিতে নেন ম্যাচ ও সিরিজ সেরার পুরস্কার। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ডারউইনে আমরা আমাদের সেরাটা দিতে পারিনি। তবে এই সপ্তাহে উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে আমরা নিজেদের মান অনুযায়ী বল করতে পেরেছি।
বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত হারের পেছনে কন্ডিশন ও অভিজ্ঞতার পার্থক্যকে দায়ি করেছেন। তবে এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, উইকেটে বাউন্স ও সুইং বেশি থাকায় ব্যাটারদের জন্য কাজটা কঠিন ছিলো। দল হিসেবে আমাদের আরও ধারাবাহিক হতে হবে। ২৩ বছর পর এসে হুট করে এমন কন্ডিশনে খেলা সহজ নয়, নিয়মিত এমন সফর হলে আমাদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়া সম্ভব হবে।
১৯৮৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর এই সফরে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সর্বশ্রেষ্ঠ জয়টি পেলেও, সিরিজটি শেষ হলো এক তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে। তবে দুই টেস্টেই বাংলাদেশের পেস আক্রমণের লড়াকু পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ সিরিজের জন্য বড়ো ইতিবাচক দিক হিসেবে থাকছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available