ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শুরু হয়েছে। আজ ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ সভা শুরু হয়।
সভায় গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন) প্রকল্পটি কার্যতালিকায় রয়েছে। ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তবে শেষ মুহূর্তে প্রকল্পটি অনুমোদন নাও পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে যুগান্তর।
প্রস্তাব অনুযায়ী, গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত যাবে এই মেট্রোরেল। পুরো পথে যেতে সময় লাগবে প্রায় ২৮ মিনিট। ব্যস্ত সময়ে প্রতি ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পরপর ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতালপথ এবং ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। রুটটিতে থাকবে ১৫টি স্টেশন—এর মধ্যে ১১টি পাতাল ও চারটি উড়াল স্টেশন।
শুরুতে ছয়টি কোচের ১৯টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০৮ জন যাত্রী পরিবহন করা যাবে। প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী এ রুট ব্যবহার করতে পারবেন বলে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনা করে ব্যয় কমিয়ে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ আগের হিসাবের তুলনায় ব্যয় কমেছে ৯ হাজার ১১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা বা ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
তবে ব্যয় কমার পুরোটা প্রকৃত সাশ্রয় নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিদেশি ঋণের সুদ ও কমিটমেন্ট চার্জ বাবদ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব দায় পরবর্তী সময়ে অর্থ বিভাগ পরিশোধ করবে।
ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে জমি অধিগ্রহণ, যানবাহন, পরামর্শক, সম্মানি ও প্রশাসনিক ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতও পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রকল্পে জমির প্রয়োজন ২৩ দশমিক ০৯ হেক্টর থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ১০৪ হেক্টর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে জমি অধিগ্রহণ ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা কমতে পারে। তবে পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ৪ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা বৈদেশিক ঋণ হিসেবে নেওয়ার কথা রয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল থেকে এ অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত। এরই মধ্যে এডিবির কারিগরি সহায়তায় প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, মৌলিক ও বিস্তারিত নকশা, দরপত্রে সহায়তা এবং জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনার কাজ শেষ হয়েছে।
তবে প্রকল্পটির পরামর্শক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। ফলে একনেকের আজকের সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন হবে কি না, তা সভার সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে।
সূত্র: দৈনিক যুগান্তর
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available