অনলাইন ডেস্ক: সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, স্বৈরাচার ও বিদেশি তাবেদারি রুখতে রাষ্ট্রকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে, আর সেই শক্তির ভিত্তি হবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি।
১৫ জুলাই বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের করে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চালু থাকা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন সুবিধা পর্যায়ক্রমে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ এর আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দেওয়া এসব সুবিধা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং নাগরিকের অধিকার। ভবিষ্যতে একটি কার্ডের মাধ্যমেই নাগরিকরা সব ধরনের সরকারি সেবা ও সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামীতে এ খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একটি বিশেষ দেশকে সুবিধা দিতে গিয়ে দেশের স্বাস্থ্যখাত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে সব খাত পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কোনো ধরনের চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। এ বিষয়ে বিরোধী দলের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন তিনি।
তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার ও কার্যকর করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, অতীতের শাসনামলে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ পাচার ও দুর্নীতির কারণে দেশের অবকাঠামো ও জনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার যেকোনো মূল্যে দুর্নীতি দমন করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে ধনী-গরিবের বৈষম্য থাকবে না, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং চরমপন্থা ও উগ্রবাদের কোনো স্থান থাকবে না।
তিনি বলেন, সরকারি ও বিরোধী দল অনেক বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করতে পারে। তবে দেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সংসদে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে বাজেট পাস হওয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি জানান, অতীতে যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা বাজেটের সমালোচনা করত, তারাও এবার এটিকে জনবান্ধব বাজেট হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available