আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুই দশকেরও বেশি সময় পর ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনীর চূড়ান্ত প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার ইরাকে থাকা শেষ মার্কিন সেনারাও দেশটি ছেড়ে যায়। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের পর শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটল এর মধ্য দিয়ে।
তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি নতুন নয়। ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সঙ্গে ইরাকের সমঝোতার ভিত্তিতেই এই প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের বিদায়কে ইরান ও তাদের মিত্ররা নিজেদের জন্য একটি সাফল্য হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ইরাকে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কিছু নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক।
২০০৩ সালের ১৯ মার্চ ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী। ওই বছরের শেষ দিকে সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার হন। পরে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
২০১১ সালের শেষ দিকে মার্কিন বাহিনী ইরাক থেকে প্রত্যাহার করেছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে মার্কিন সেনারা আবার ইরাকে ফিরে আসে। এরপর ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র।
রয়টার্স জানিয়েছে, সর্বশেষ ইরাকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা বিভিন্ন ঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান হলো।
তবে মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার পর ইরাকে নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়ার পাশাপাশি আইএসের ঘুমন্ত নেটওয়ার্কগুলো আবার সক্রিয় হতে পারে বলে মনে করছেন কিছু নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক।
ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি বলেন, গত দুই দশকের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে নিরাপত্তাক্ষেত্রে কোনো শূন্যতা তৈরি হলে তা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
মার্কিন বাহিনী ইরাক ছাড়লেও দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এখন আরও বেশি দেশটির নিজস্ব নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পড়বে।
সূত্র : রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available